"); -->
Showing posts with label Poem. Show all posts
Showing posts with label Poem. Show all posts

Oct 1, 2015

পোড়ার… মুখী

|| পোড়ার… মুখী ||


সকাল থেকেই শাশুড়ি-মা, বৌকে  দিচ্ছে ধ্যাতানি,
কাক-পক্ষী উড়ে পালায়, এমন গলার চ্যাঁচানি ।

বৌ বসেছে মাজতে বাসন, কলতলাতে রেখে,
শাশুড়িকে ভেংচি কাটে, এদিক-ওদিক দেখে ।

বৌকে উচিৎ শিক্ষা দিতে, শাশুড়ি যায় ঘেমে,
“লক্ষ্মীছাড়া, পোড়ার ...” , বলেই হটাত গেলো থেমে ।

চমকে উঠে, বৌ তাকালো শাশুড়ি-মায়ের দিকে,
হঠাৎ কেন থামল বুড়ি, সেই খবরটা নিতে ।

সামনে গিয়ে, বললো ডেকে, “কি হয়েছে মা ?”
দেখল আগুন-চোখে চেয়ে বুড়ি, মুখটা করে হাঁ ।

ঘাবড়ে গিয়ে বৌ গিয়ে তার বরকে আনে ডেকে,
বুড়ির ছেলে ঘাবড়ে গেল মায়ের এ হাল দেখে ।

ভ্যান গাড়িতে চাপিয়ে মাকে, ছুটল ডাক্তার বাড়ি,
ডাক্তার বাবু ঘরেই ছিলেন, কিন্তু ব্যস্ত ভারী ।

ছেলে গিয়ে ডাক্তার বাবুর পা জড়িয়ে ধরে,
“ডাক্তার বাবু, কি হোল মা'র, কথা বলবে কেমন করে ?”

ডাক্তার বাবু দেখে বলেন, “আটকে গেছে চোয়াল ।
বাড়ি বসে, উনি কি আজ গাইতে ছিলেন খেয়াল ?”

বৌ বলল, “রোজ সকালে, আমার উপর চেঁচান নিয়ম মেনে,
আজ 'লক্ষ্মীছাড়া, পোড়ার', বলে হঠাৎ গেলেন থেমে ।“

ডাক্তার বাবুর হাতের চাপে চোয়াল গেল খুলে,
শাশুড়ি মা ও উঠে বসলেন “...মুখী” কথাটি বলে ।

(প্রয়াত সাহিত্যিক শ্রদ্ধেয় 'বনফুল' এর একটি ছোট গল্প অবলম্বনে আমার এই কবিতা)

------------------------------------------------------------------------
Contributed by: Kalyan Kumar Basu in WaaS / 01 October 2010

Sep 26, 2015

বঙ্গ-দর্শন

|| বঙ্গ-দর্শন ||


ট্রামের লাইন জলে বোজা          
ঘোড়ার আবার লেজটা সোজা |
গড়ের মাঠে লাঠি হাতে
অনেক লোকের মেলা,
ছোট্ট সাদা বল মেরে
গর্ত গর্ত খেলা |
নিজাম বাড়ির এদিক ওদিক
বিরিয়ানির ঘি,
ইফতারটা আসবে কবে
ভাবছে সিদ্দিকী |
দাস সাহেবের বন্ধ টিনে
হচ্ছে পাচার মিষ্টি,
টিকিট কেটে উঠছে কিনা
কালো কোটের দৃষ্টি |
পৈতে ধোয়া গঙ্গাজলে
বাসী মালা ভেসে চলে,
শিশিভরে বাড়ি চলে
পুন্যি-স্নানের দল,
একটুখানি ছিটিয়ে দিলেই
হাতে-নাতে ফল |
বাসের ভিতর অনেক লোকে
মেয়েলি সিটে দাঁড়িয়ে থাকে
কন্ডাক্টর আর্জি করেন
টিকিটটা হাত বাড়ান
যাত্রীরা সব মর্জি ধরেন
বাসটা আগে চালান |
বড় দোকান, ছোট শিশি
ডয়েশ ডাক্তার, বয়েস বেশি
রুগীর মুখে দু’চার ফোঁটা
যমের দুয়ারে পড়ল কাঁটা |
নতুন দ্বীপের মায়ারা সব
রঙিন শাড়ি লেপ্টে পরেন 
খড়ের গাদায় লুকিয়ে হরি
বাঁশির সুরে সিটি মারেন |
মামী বলে ছাড় পাবে না 
পুকুরঘাটে আর যাবে না 
কলসি হবে কানা কানা
তাই বলে কি প্রেম দেব না ?
দুপুরবেলা বিবাদী বাগে
দোসার আদর তুঙ্গে থাকে
বিকেল হলেই মাটির ভাঁড়ে
কিম্বা ছোট কেটলি করে
ধুম্রপানের আসর জমায়
হাওয়াই চটির দল
বাড়ি ফেরার আগেই কাল
স্ট্রাইক কিনা বল !
কুমারটুলির খড়ের মাটি
ঢাকিপাড়ায় পড়ল চাঁটি
রাস্তাজুড়ে বাঁশের বাড়ি
চলবে না আর কোনও গাড়ি
মোড়ে মোড়ে রোলের কদর
এন্টাসিডের বাড়ছে আদর
চারটি দিনের বাপের বাড়ি
পয়সা খতম, শুকনো হাঁড়ি |
পাড়ার মোড়ে বিকেলবেলা
তেঁতুলগোলা জলের খেলা,
চটকে আলু, মাখবে জোরে
ভাজা মশলা, লঙ্কা ভরে
Zম্বিরা সব দাঁড়িয়ে থাকে
বাড়িয়ে তাদের হাত
শালপাতাদের মৃতদেহে
ট্র্যাফিক কুপোকাত
অমাবস্যায় মাইক বাজায়
সাজিয়ে নিয়ে বোতল,
বলতে গেলেই মারবে গালি
কেউবা হবে কোতল |
খাঁড়ার ভয়ে, গাঁজার দমে
শুয়ে থাকেন ভোলা
পেটের উপর শ্যামলা মেয়ে
জামা কাপড় খোলা |
রেলের তারে শকুন মরে
লাইন ধরে মানুষ চরে,
শকুন ব্যাটা অলুক্ষুনে
সময় পেল না,
বাড়ি ফেরার সময়ে আর হাঁটতে পারি না |
হাওড়া ব্রিজের মাথার ওপর
একটা পাগল উঠলো দেখে
উর্দিপরা পেটমোটারা
হঠাত কেমন গেল খেপে |
কালো যন্ত্রে টক্কাটরে
লালবাড়িরা জীপে চড়ে
খবরবাবু তড়িত বেগে
Chaliye ashen jan,
চালিয়ে আসেন যান,
কেবা আগে ভাঙ্গবে খবর
জিতবে উসেইন রান |
রাইটার্সের বন্ধ ঘরে
লেফ্ট রাইট খেলা,
পাঁচটা বছর কে লুটবে
সকাল সন্ধ্যা বেলা |
অনেক কিছু লিখেই চলি
পাতার পর পাতা, 
এসব কিছু দেখতে হলে
শহর কলকাতা ||

----------------------------------------------------------------------------------
Contributed by: Udayan Dasgupta / 26 September 2015

Sep 25, 2015

নারায়ণ নিদ্রা গেছেন

|| নারায়ণ নিদ্রা গেছেন ||


সকাল বেলা সিধু বাবু ঠাকুর ঘরে এসে,
ভাবতে ছিলেন, কি হবে আজ বিজু বাবুর কেসে ।
বিজু বাবুর জমিটা, সিধুর জমির পাশে,
বন্ধু ছিলেন, শত্রু হলেন গত কয়েক মাসে ।
কয়েক কাঠার ঝগড়া নিয়ে, মামলা আদালতে,
জমির দামের বেশী গেছে, উকিল বাবুর পেটে ।
সিধু বাবু খালি পেটে, ঠাকুর ঘরে এসে,
'হে নারায়ণ, জিতিয়ে দাও, আজকের এই কেসে ।
বিজু বাবু ও কম যান না, তিনি ও ঠাকুর ঘরে,
তিনি ও ডাকেন, 'নারায়ণ, সিধুকে দাও মেরে ।'

নারায়ণ শুনতে পেলেন বৈকুন্ঠে শুয়ে,
দুই জনের আর্জি শুনে, শুলেন বাঁ-কাত হয়ে ।

অফিসে তে ইঁদুর-দৌড়, সবাই চাইছে প্রমোশন,
পদ তো খালি একখানি, যাবে তো এক জন ।
লেঙ্গি মারা চলছে ভীষন, কি হবে সেই নিয়ে,
ফুল-মিষ্টি-প্রণামি ঘুঁষ, মন্দিরেতে গিয়ে ।

নারদ মুনি, করলেন রিপোর্ট নারায়ণ কে গিয়ে,
পাশ ফিরে শোন নারায়ণ, চাদর মুড়ি দিয়ে ।

অতুল, রাতুল দুই জনেতেই এক ই ক্লাসে পড়ে,
প্রথম স্থানটি বাঁধা থাকে কোনো একজন করে । 
মাধ্যমিকে দু জনেতেই ভগবান কে ডাকে,
ফল বেরুলে, যেন আমিই থাকি অন্যজনের আগে ।

ভগবান তো জেগেই ছিলেন, শুনতে সবই পান,
আগ মার্কা সর্ষের তেলে, নাকে দিলেন টান ।
ভাবতে বসেন গভীর ভাবে, কি ভাবে এ হয়,
সব্বাই কে জিতিয়ে দেওয়া তাঁর কর্ম নয় ।

বিপদ বুঝে যোগ-নিদ্রায় ঠাকুর নারায়ণ,
কেউ জানি না, এই নিদ্রা তার চলবে কতক্ষণ ।।

(প্রয়াত সাহিত্যিক শ্রদ্ধেয় 'বনফুল' এর একটি ছোট গল্প অবলম্বনে আমার এই কবিতা লেখার ক্ষুদ্র প্রয়াস)

--------------------------------------------------------------------------------------------------
Contributed by: Kalyan Kumar Basu in WaaS / 25 September 2015

Sep 24, 2015

এখন সম্বল

|| এখন সম্বল ||


অনেক পথ পাড়ি দিয়ে ক্লান্ত আমি ।
যে ছায়াপথে হেঁটেছি এতো দিন
সে তো কোলে দেয় নাই স্থান
পথ হারা, বাস্তুহারা, ঘুরি দ্বারে দ্বারে
দিন মোর কেটে যায় উচ্ছিষ্ট আহারে ।

জীবনের বহুদিন কেটে গেছে নক্ষত্রের ভিড়ে
অর্থ, মান, যশ আজ কিছু নাই
পিছে পড়ে আছে মোর যা ছিল বৈভব
মলিন বসনে ঢাকি শীর্ণ দেহ মোর
একা ঘুরি পথে পথে ঠিকানা হারায়ে ।
আপন যারা ছিল সব গেছে দৃঢ়ে
বিষণ্ণ বেলায় ফিরি দুয়ারে দুয়ারে ।

সন্ধ্যাদীপ নিভে গেছে, চারিদিকে ঘোর অন্ধকার
জ্ঞানের আলো জ্বেলে দেব সাধ্য নাই তার
কি দিয়েছে নিজ ঘর, আত্ম পরিজন ? 
একজন ঘরে ছিল সেও গেছে দূরে
এখন সম্বল শুধু একটি দীর্ঘশ্বাস
ক’টা দিন পরেই হয়ে যাব বেওয়ারিশ লাশ ।।

------------------------------------------------------------------------------------------------
Contributed by: Subhas Choudhury in WaaS / 24 September 2015

Sep 23, 2015

আদর্শ ইনসাফ

।। আদর্শ ইনসাফ ।।


মাঠঘাট জল নদীর বালি ইজ্জত সম্মান,
বাইজির নাচ, ঘরের বধূ, ভোরের পোলাপান, 
সব কিছুকেই বেবাক বেচুন মূল্য সঠিক জেনে
বিকিকিনির হাটবাজারে বিবেককে না টেনে ।

রিজবানুরে বিক্রি করে শক্ত ভোটের মাটি,
কামদুনিকে সস্তাদরে কিনেছে এক পার্টি ।
দমদমেতে রেলের লাইন রক্তবানে ভাসা,
সেই টোডিরাই শুদ্ধ এখন গঙ্গাজলে খাসা !

অন্তর্বাস-বাণিয়াদের কিস্যা, হিস্যা বাত
কে বোলাল কার শরীরে অশ্লীলতার হাত !
ইনসাফ দাও, বিশ্বাস দাও, ইমান বেচে দাও
গোটা দেশই পুণ্যভূমি—বিপন্নতা ? ফাও,
আপাতসুখ চাও? গদিটি বাঁচাও !!!

-----------------------------------------------------------------------------------------------
Contributed by: Subho Joardar in WaaS / 23 September 2015

Sep 22, 2015

কী বার

|| কী বার ||


ঘুরতে গেছি জাঞ্জিবার
বোতল হাতে দেখি সবার ।
দারুণ ইচ্ছে হোল খাবার,
কিন্তু যে হায় পাইনা বার ।


দিনটা ছিল রবিবার।
তবে কি আজ শুকনোবার ?
বাকি ছিল চমকাবার
যখন দেখি হচ্ছে বার 


পয়সা দিলেই বারংবার
মেশিন থেকে - কী আবার ?


মদের বোতল !


-------------------------------------------------------------------
Contributed by: Arabinda Ghosh / 22 September 2015

ঘ্রাণেন

|| ঘ্রাণেন ||


শিব্রাম গেছিলেন চাইনিজ হোটেলে,
চীনা খাওয়া কভু তার জোটে নি তো কপালে ।

মেনু কার্ড দেখে তিনি জল খান এক গ্লাস,
কি সব যে লেখা আছে এটা সেটা ছাইপাঁশ ।

চোখ ওঠে কপালে, ডান দিকে দেখে দাম,
শিরদাঁড়া কেঁপে গিয়ে, কপালেতে জমে ঘাম ।

অর্ডার নেবে বলে, কাছে এলো ওয়েটার,
কম দামে, এনে দিল মিনারেল ওয়াটার ।

পেটে ছুঁচো মারে ডন, পকেটে পয়সা নাই,
শিব্রাম ভাবে বসে, কি করে খাবার পাই ।

চারিদিকে খায় সব উপাদেয় খাদ্য,
চাইনিজ খাবারের কি দারুণ গন্ধ ।

জল খেয়ে ভাবে বসে, খাওয়া যায় কেমনে,
তখনি এলো তার সেই শ্লোক স্মরণে ।

"ঘ্রাণেন অর্ধ-ভোজন" বলেছিল পণ্ডিত,
বার বার ঘ্রাণ নিলে, পেট ভরা নিশ্চিত ।

এই ভেবে বসলেন, কিচেনের পাশেতে,
গন্ধেই ভরাবো পেট, এই বড় আশা তে ।

বড় বড় শ্বাস নিয়ে, নাক ভরে গন্ধ,
দেখে তাই, ম্যানেজারের লাগে বড় সন্দ ।

ডেকে বলে, "ওই খানে করছ কি বাঙ্গালি,
গন্ধ টা চুরি করে পেট কেন ভরালি?

গন্ধটা আমি আজ দেব না কো ফোকটে",
শিব্রাম দেখালেন, দু’টি টাকা পকেটে ।

টাকা দু’টি হাতে নিয়ে ঠনঠন বাজালেন,
'দামটা শোধ হোল', এই বলে হাঁটলেন ।

ম্যানেজার রেগে বলে, "মস্করা-ঠাট্টা,
ধরে আন ব্যাটাকে মারি তিন গাঁট্টা ।"

শিব্রাম বললেন, 'খেয়েছি তো গন্ধ,
দাম তার দিয়েছি, টাকাটার শব্দ ।

যেমন খেয়েছি আমি, দাম তার তেমনি,
চীনে বাবু, তুমি আজও বাঙ্গালিকে চেন নি ।'
………………………………………
প্রয়াত শিশু-সাহিত্যিক শ্রদ্ধেয় শিব্রাম চক্রবর্তী র গল্প-অবলম্বনে আমার শ্রদ্ধার্ঘ্য - কল্যাণ কুমার বসু, ২২/৯/২০১৫

----------------------------------------------------------------------------------------------------
Contributed by: Kalyan Kumar Basu in WaaS / 22 September 2015



Sep 21, 2015

পুজোর বাজার

|| পুজোর বাজার ||


‘বেশীদিন আর নেই বাকী, পুজো গেল এসে,
বাজারটা তো সুরু করো’ মেয়ে বলে হেসে ৷
‘জানি তুমি রিটায়ার্ড, নেই যে কোন কাজ
বাজার করার নাম নিলে কপালে পড়ে ভাঁজ ৷
মিছেই কেন ভাবছ, চাইব না খুব বেশী
বিলিতিতে লোভ নেই, আমি তো চাই দেশী ৷
গোটা দুই জামদানী, গোটা তিন সালোয়ার
এর সাথে ম্যাচ করে জুয়েলারি জড়োয়ার ৷
জুতো তো দিতেই হবে, আর সাধারণ শাড়ী
এইটুকুতেই চোখ কপালে, মাথায় করছ বাড়ী ৷’
মেয়ে আমার অল্পে খুশী, চায় নি কিছু বেশী
আপনারাই করুন বিচার, আমি এইবার আসি ৷৷

---------------------------------------------------------------------------------
Contributed by: Kesab Sanyal in WaaS / 21 September 2015

Sep 18, 2015

জীবন অন্য সুরে

।। জীবন অন্য সুরে ।।


মেঘ কোরো না অমন করে -
তার চেয়ে ঢালো বৃষ্টি ।
মেঘ দেখলেই মন যে কাঁপে,
বুঝি এই শুরু অনাসৃষ্টি ।
চোখে চোখ রেখে সামনে দাঁড়াও -
কোথাও তুমি দেখলে ফাঁকি ।
এখনও তো আমি ডুবতে রাজী,
পথ এখনোও অনেকই বাকি ।
বয়স শুধুই বছর হিসেব -
স্বপ্ন দেখার নেইকো শেষ ।
চাও যদি ফের হোক না শুরু,
অতীত ভুলে বদলে বেশ ।
মেঘ ছেড়ে তাই আলো আনো -
আঁধার আগল সরিয়ে চুপে ।
'আমার আমি' রাখছি বাজী,
নতুন সাজে নতুন রূপে ।।


দেবদাস মিত্র
----------------------------------------------------------------------
Contributed by: Debdas Mitra / 18 September 2015


Sep 13, 2015

জিজ্ঞাসা

|| জিজ্ঞাসা ||


জীবন পথে চলার সময় বিঘ্ন আসে নানারকম ,
সুস্থ মনে চলতে গিয়ে হয়ে যায় যে মাথা গরম ।
আত্ম স্বজন পরিচয়ে আছে যারা আশেপাশে -
স্বার্থটা যেই পূরণ না হয় মুখোশ খোলা রূপ প্রকাশে ।
এরা ছাড়াও পথে ঘাটে কিম্বা কর্মক্ষেত্রে দেখি -
একই ছাঁচের মানুষ যত ভদ্রতারই প্রলেপ মাখি ।
এসব ছাড়াও অসুখ বিসুখ নিজের এবং কলত্রাদির -
পুনঃপৌনিক ধারায় আসে, মনের জ্বালা হয় গভীর ।
এর পরেতে আছে আবার বাসের ভাড়া ট্রেনের ভাড়া -
ইলেকট্রিকের বিলের খোঁচা, বাজারদর যে লাগামছাড়া ।
স্কুল কলেজের মাইনে, পোশাকের দরও বেড়েই চলে -
এদের সাথে যুঝতে গিয়ে মাইনেটুকুই যায় যে গলে ।

মাঝরাতেতে ঘুম ভেঙ্গে তাই ছাদে গিয়ে বসে ভাবি -
এমনি করেই কাটবে কি দিন , কোথায় সুখের চাবি ?
শূন্য তলে বসে তখন মনটা হয়ে যায় যে ফাঁকা -
বিপুল বিশাল সৃষ্টি দেখে প্রশ্ন জাগে মনে একা ।
যুগের পরে যুগ পেরিয়ে লক্ষ কোটি বছর ধরে -
চন্দ্র, সূর্য, গ্রহ, তারা ঘুরছে শুধুই এমনি করে ?
আকাশ, বাতাস, তরুলতা, শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষা - ঋতু
সুখ, দুঃখ, ভালোবাসা, পশু-পক্ষী কিসের হেতু ?
সৃষ্টি হলো কবে কখন - বিশাল এমন সৃষ্টি কাহার ?
এ সবের কি সার্থকতা জবাব কিছু আছে পাবার ?

জমাট বাঁধা অশ্রু তখন বুকের উপর গড়িয়ে পড়ে - 
মনটা কিছু হালকা হলে ঢুকি গিয়ে নিজের ঘরে ।।

---------------------------------------------------------------------------------------------------------
Contributed by: Debkisor Chakrabarti in WaaS / 13 September 2015

Aug 16, 2015

Buck স্বাধীনতা

|| Buck স্বাধীনতা ||


হোক কলরব আড্ডার সুরে
চলুক কথার ফুলঝুরি ৷
তবেই তো হবে বাক-স্বাধীনতা
কেন তবে কর মুখ হাঁড়ি !
Talk ঝাল গুল, ঝাড়ো রকে বসে
বুলি মেরে ভাঙ্গো ঘর বাড়ী ৷
স্বাধীনতা মানে ভাষণের ছটা
নেতাদের মুখে বাতেলার ঘটা ৷
যখন তখন মুখ ভারি !
চায়ের ভাঁড়েতে উঠছে তুফান
কেউ বা বাক্যে কাব্য ছড়ান ৷
কেউ শুনে তার জ্ঞানটি হারান ৷
কেউ বা কানের পর্দা ফাটান ৷
বাক্য বাগীশ পাশের বালিশ
কথার প্যাঁচেই মধুর মালিশ ৷
কথা ঘষে ঘষে করেন পালিশ
ভুলেও কখনো করে কি নালিশ !
গোঁফ দাড়ি ধারি বাক্য-লোচন
বাক বিতণ্ডা – খনার বচন ৷
মনের গভীরে না করে গোপন
খুলে ফেলে দাও কথার বাঁধন ||


অকুঘো / শিকাগো / ১৫/৮/১৫

----------------------------------------------------------------------------
Contributed by: Arun Kumar Ghosh in WaaS / 16 August 2015

Aug 11, 2015

কর্তা গিন্নী

|| কর্তা গিন্নী ||


কর্তা গেছেন ষাট পেরিয়ে, গিন্নী একটু কম
গিন্নীর খাওয়া নিরামিষ, কর্তা মাছের যম ৷
কর্তা বলেন, গিন্নী তুমি এখনো যে ছবি
গিন্নী বলেন, কর্তা তুমি হয়েছ দেখছি কবি ৷
কর্তা বলেন, গিন্নী তোমার মাথায় কত চুল
গিন্নী বলেন, কর্তা তুমি শিখেছ দেখছি গুল ৷ 
কর্তা বলেন, গিন্নী তোমার মরাল সম গতি 
গিন্নী বলেন, কর্তা তোমার হয়েছে ভীমরতি ৷
কর্তা বলেন, গিন্নী তোমার গলা কত মিষ্টি 
গিন্নী বলেন, ঢের হয়েছে – যতো অনাসৃষ্টি ৷
কর্তা বলেন, গিন্নী তোমার সোনার মত রং
গিন্নী বলেন ঘার বেঁকিয়ে, রাখো তোমার ঢং ৷
কর্তা বলেন, ঠোঁট রাঙ্গাতে খাও না কেন পান
গিন্নী বলেন, রান্না শেষ – করে এসো চান ৷
এমনি করেই দুজনাতে থাকেন গভীর প্রেমে
আপনারাও থাকুন না, বাঁধিয়ে রাখবো ফ্রেমে ৷ 

- কেশব সান্যাল
------------------------------------------------------------------------------------
Contributed by: Kesab Sanyal in WaaS / 11 August 2015

Aug 6, 2015

A Doting Grandfather’s Silly Verse

|| A Doting Grandfather’s Silly Verse ||


Today I spoke to my granddaughter Khushi,
We did speak over Skype,
It was an hour-long talk on matters of our heart,
No preaching, no hype.

Khushi read to me some verses she wrote,
Also, some verses written by other writers;
Some of the poems made me so happy,
Some could have been a bit brighter!

Khushi did agree to draw a picture of something
That I failed to see!
She also agreed to write a new verse
On a subject that was chosen by me.

The heart to heart talk in the morning
Has filled me with lots of energy.
So I felt like jotting down my happy thoughts
In this silly piece of poetry.


-------------------------------------------------------------------------------------------------

Contributed by: Sarbanidas Roy in WaaS / 06 August 2015

Aug 5, 2015

আজকের এস.ও.এস.

|| আজকের এস.ও.এস. ||


কেউ কি কোথাও আছো ?
কেউ ছিন্ন অস্তিত্বের পারে
নিয়ে যেতে পারো কি আমাকে ?
এখানে পায়ের নিচে বেনোজল পাখসাট মারে !
চরাচর ডুবে গেছে বিশহাত বর্ষণের নিচে,
শতাব্দীর অশ্রুর ভাঁড়ার উজাড় করেছে যেন কাল ;
আমরা দাঁড়িয়ে আছি দুর্দশার ভঙ্গুর সী-বিচে ।
#
কেউ কি কোথাও নেই !
রিলিফের ল্যাম্পপোস্ট থেকে করুণার বাল্ব গেছে চুরি ?
হৃদয়-উত্তাপ শুধু বিকিকিনি হবে নাকি
ব্ল্যাক মার্কেটেই !
কেউ কি কোথাও নেই !
এখনো থাকবে মেতে আলোকমালার তমসাতেই !
কান পেতে শোনো –
আমি অর্ধ মগ্ন অর্ধদগ্ধ অর্ধ নগ্ন
পড়ে আছি হাবড়ায় সাগর দ্বীপে
মালদা মেদিনীপুর বীরভূম নদীয়া ঘাটালে ।
#
হে নোয়া !
ত্রাণের নৌকো আসবে কখনো ?


-----------------------------------------------------------------
Contributed by: Ashim Das Sharma / 05 August 2015

Aug 2, 2015

নিম্ন-চাপ

|| নিম্ন-চাপ ||


হর্ষ বাবুর হোলো এবার নিম্ন-চাপের রোগ
তাগড়া এক যমদূতের কেন এই ভোগ.
ছিলেন বেশ আপিস, বাড়ি, মাঠ, ময়দান নিয়ে
তার মেয়েটির লাগলো তখন বিয়ে ।
৬০০ লোকের আসার কথা, কন্যা দানের দিনে
ব্যবস্থা বিরাট, অপেক্ষা আসুক লোকে চিনে ।
এমন সময় হঠাত শুরু নিম্ন চাপের জল
কনের বাবার হোলো এবার চোখটি ছল-ছল ।
আকাশ ভেঙ্গে পড়ছে যত নিম্ন-চাপের ধারা
দুর্জনেরা বলে এর কারণ ওই ৩-৪ পাড়ার ছোঁড়া
মন ভেঙ্গেছে, ভগবানের চোখেও জলের ধারা ।
এলেন মাত্র ৭০ জন বরকর্তা নিয়ে
ধুম ধামে হোলো শেষে শ্রীমতীর বিয়ে ।
বেঁধে-ছেঁদে নিয়ে গেলেন খাবার আছে যত
২১ দিন ফ্রিজে রেখে হর্ষ বাবু (প্রায়) গত
প্রবল নিম্নচাপ বাথরুমেতেই বালিশ
হর্ষ বাবু খেয়ে যান ২১ দিনের ইলিশ ।।


-------------------------------------------------------------------------------------
Contributed by: Prabir Acharya in WaaS / 02 August 2015

Jul 28, 2015

পায়ের তলায় সর্ষে

|| পায়ের তলায় সর্ষে ||


একদিন ইচ্ছে করে,
Greyhound বাসটা ধরে,
পাড়ি দেই দূরের পথে,
USA-এর কোনকোনতে |
Washington রাজ্য মাঝে
Seattle শহর আছে,
সুন্দর পাহাড় ঘেরা
সে শহর নয়ন-কাড়া |
কত কী যে দেখার আছে,
মনটা উড়ে চলেছে |
Utah এক রাজ্য তাহার,
অসংখ্য বনের বাহার,
মনোলোভা বনভূমি,
উপমা পাবে না তুমি |
বন আছে Montana-তেও,
চুপি চুপি মন টানে তাও |
Yellowstone বেড়াতে গেলে,
এখানেই নোঙ্গর ফেলে,
চলে চলো যত্র তত্র,
Bighorn যুদ্ধক্ষেত্র |
Nevada-তে Vegas শহর,
দেখা তার দৃশ্য জবর |
Grand Canyon Arizona-তে,
দেখেছি তা গতবারেতে |
San Francisco, San Diego,
দেখেছি যে গতবারে গো ;
Los Angelesও হরেছে দেখা,
মন চলো ঘোরাই পাখা ;
উড়ে চলি অন্য পানে,
দক্ষিণ দিক যে টানে |
Arkansas, Oklahoma,
Texas, Louisiana--
দখিনের রাজ্য এরা,
বন, সমুদ্র, পাহাড়ে ঘেরা |
দেখে নাও চক্ষু ভরে,
ছোটো বড় শহরে নগরে |
আরও যদি দেখতে চাও,
Florida রাজ্যে যাও |
প্রাণ ভরে সব দৃশ্য দেখো,
Miami আর Orlando |
আরও বহু কিছু দেখার আছে,
চলা মোর ফুরায় না যে !
না এবার থামতে হবে,
গৃহিণী খাপ্পা হবে |

"টাকা নেই, বাতিক যত"
ভয় খেয়ে হৈ থতমত;
থেমে যাই এবার তবে,
পরে ফের যাত্রা হবে ||


------------------------------------------------------------------------------------
Contributed by: Sarbanidas Roy in WaaS / 28 July 2015

Jul 22, 2015

যা আমার সয়

।। যা আমার সয় ।।


(২১শে জুলাই, বৃষ্টি-বাদল দিনে জানলার ধারে বসে নানান ভাবনায় ডুবে ছিলাম । কিছু লিখলাম কবিতা আকারে । আপনাদের সঙ্গে সহভাগ করলাম ।)

ওরা চেয়েছিল কিছু
চেয়েছিল অকপটে
- ওরা যে চাইতে পারে ।
মুখ ফুটে বলতে পারে না 'ভালবাসি' ।
আমি সেইটুকু দিয়েছি
আমি সেইটুকু শুধু দিয়েছি
যা আমার সয় ।
আমি যে ছুঁয়েছি সে ভালবাসা
যতক্ষণ ওরা চেয়েছে অকাতরে ।
ছুঁয়েছে মন রামধনু রঙ।
আজ একেলা বসে কাঁদছে মন
চেয়ে চেয়ে দেখছি দূর থেকে ।
এ ভালবাসা নয় ভালবাসা নয়
অহমে নিমজ্জন ।
আবার ফিরবো আমি নব কলেবরে
মন ভাসাবো সে অনুপ্তে
চাওয়া পাওয়ার বাঁধন ছেড়ে
ঝাঁপ দেবো সে অনন্তে ।।

----------------------------------------------------------------------------
Contributed by: Sisir Das in WaaS / 22 July 2015

Jul 20, 2015

জীবনপুরের পথে

|| জীবনপুরের পথে ||


সেই যে কবে চলার শুরু ইচ্ছেগুলোর সাথে । 
স্বপ্ন ভরা চোখে,
সময়টাকে হাতের মুঠোয় বন্দী করে রেখে,
কত লড়াই লড়ে,
জীবনপথের গোলকধাঁধায় কত না বাঁক ঘুরে,
আজ ক্লান্ত অবশ পায়ে 
অম্লমধুর স্মৃতির ভারে ন্যুব্জ এ মন নিয়ে,
চলা, শুধুই চলা । 
চাওয়া পাওয়ার হিসেব নিকেশ শিকেয় আছে তোলা । 
ইচ্ছে ছিল যতো,
মিলিয়ে গেছে মনের মাঝেই ভেল্কিবাজির মতো । 
কখন যে কোন ফাঁকে,
সময় কোথায় পালিয়ে গেছে মুঠোর কয়েদ থেকে । 
শুধুই নিষ্ফল আক্রোশে,
পাকিয়ে মুঠো হাত ছুঁড়ে দিই আকাশের উদ্দেশে । 
তবু স্বপ্ন আজও বাঁচে,
স্বপ্ন ভরা চোখ এখনও তেমনি করেই আছে । 
তাই দুহাত বাড়াই,
হে অনন্ত, অসীম আরও আরও সময় চাই ।।

-----------------------------------------------------------------------------------------
Contributed by: Kamal Sengupta in WaaS / 20 July 2015

Jul 17, 2015

টাক পাঁচালী


|| টাক পাঁচালী ||


(সুর করে পড়ার অনুরোধ থাকল)

শোন শোন বন্ধুগণ, শোন দিয়া মন,
টাকের টুকিটাকি হেথা করিব বর্ণন ।

সার্থক জনম যদি থাকে টাকের জমিন,
টাকহীন মানুষ দেখো করে মিনমিন ।

টাক আমার, টাক তোমার, কত নামকরণ
টেকো, টাকু, টাকলু শুনিবে সর্বক্ষণ ।

বাঙলায় টাকের আরও নাম আছে কত,
ইন্দ্রলুপ্ত, চন্দ্রমাথা, লুপ্তকেশ যত ।

বাঙাল ভাষায় - ওরে ‘তাউল্যাছোলা‘
টাককে ঘটি-বাটি, কোরো না হেলাফেলা ।

দুষ্টুরা তব টাকের বিভিন্ন দিয়াছে নাম,
এক্ষণে তাহাদিগের করিতেছি প্রণাম ।

‘এই কুলে আমি আর ওই কুলে তুমি,
মাঝখানে নদী ওই বয়ে চলে যায়‘ ।

এমন টাকে কেশ, থাকে দুপাশে মাথার,
মধ্যিখানে ব্রহ্মতালু অকুল-পাথার ।

‘এরা থাকে ওধারে‘ এমন টাকও আছে,
একপাশের কেশ টেনে ফেলা অন্যপাশে ।

‘মেঘে ঢাকা তারা‘ আছে আরেক টাক ,
সামনে পাতা কেশ, পিছনেতে ফাঁক ।

‘ছাদ খালি সিঁড়ি জাম‘ দেখ আরেক টাক,
গোটা মাথা চুল শুধু ব্রহ্মতালু ফাঁক ।

‘স্মৃতি টুকু থাক‘ টাকের মহিমা অপার ,
কোথাও একটু কেশ, বাকী পগারপার ।

‘অবাক পৃথিবী‘ - তাক লাগানো টাক,
পুরোপুরি চষা জমি পুরোপুরি ফাঁক ।

দেবুরও আছে টাক নাহি কোন সিঁথি,
টাকের মহিমা আজি করিতেছি ইতি ।।

--------------------------------------------------------------------------------------------
Contributed by: Debkisor Chakraborti in WaaS / 17 July 2015

Jul 13, 2015

অবসর জীবন

|| অবসর জীবন ||

(প্রথমেই বলে রাখি, আমি একজন শান্ত-শিষ্ট, পত্নী-নিষ্ঠ ভদ্রলোক, ঘাড়ে আমার একটি মাথা, চাই না সেটায় পড়ুক কোপ । তাই জানাই, এই কবিতার 'স্ত্রী' চরিত্রটি কাল্পনিক ।)

চল্লিশ বছর চাকরি করে যখন নিলাম অবসর,
মনটা খুশী, আরাম করে দেখব এবার খোশখবর ।
সন্ধ্যাবেলায় সেদিন আমি দেখছি বসে ক্রিকেট ম্যাচ,
গিন্নি গেছেন পাশের বাড়ি, মাথায় নিয়ে নানান প্যাঁচ ।
হঠাৎ তিনি ঘরে ঢুকে, বলেন আমায় রিমোট দাও,
দেখব আমি "মা" সিরিয়াল, এখন তুমি বাইরে যাও ।
করুণ সুরে বলি আমি, "দেখছি যে এক দারুণ ম্যাচ ।"
গিন্নী বলেন, "বললে বেশি, দেখবে আমার লিগ্যাল প্যাঁচ ?
বললে কথা, ডাকবো পুলিশ, ৪৯৮ ধারায় কেস দেবে,
এখন থেকে বলবে কথা, এদিক-ওদিক সব ভেবে !"
হতাশ হয়ে ভাবি আমি, কি দরকার এই খুড়োর কল,
স্বামীরা তো এমনি কাবু, যখন বউ এর চোখে গঙ্গাজল ।।

---------------------------------------------------------------------------------------
Contributed by: Kalyan Kumar Basu in WaaS / 13 July 2015