"); -->
Showing posts with label Kalyan Kumar Basu. Show all posts
Showing posts with label Kalyan Kumar Basu. Show all posts

Oct 1, 2015

পোড়ার… মুখী

|| পোড়ার… মুখী ||


সকাল থেকেই শাশুড়ি-মা, বৌকে  দিচ্ছে ধ্যাতানি,
কাক-পক্ষী উড়ে পালায়, এমন গলার চ্যাঁচানি ।

বৌ বসেছে মাজতে বাসন, কলতলাতে রেখে,
শাশুড়িকে ভেংচি কাটে, এদিক-ওদিক দেখে ।

বৌকে উচিৎ শিক্ষা দিতে, শাশুড়ি যায় ঘেমে,
“লক্ষ্মীছাড়া, পোড়া ...” , বলেই হটাত গেলো থেমে ।

চমকে উঠে, বৌ তাকালো শাশুড়ি-মায়ের দিকে,
হঠাৎ কেন থামল বুড়ি, সেই খবরটা নিতে ।

সামনে গিয়ে, বললো ডেকে, “কি হয়েছে মা ?”
দেখল আগুন-চোখে চেয়ে বুড়ি, মুখটা করে হাঁ ।

ঘাবড়ে গিয়ে বৌ গিয়ে তার বরকে আনে ডেকে,
বুড়ির ছেলে ঘাবড়ে গেল মায়ের এ হাল দেখে ।

ভ্যান গাড়িতে চাপিয়ে মাকে, ছুটল ডাক্তার বাড়ি,
ডাক্তার বাবু ঘরেই ছিলেন, কিন্তু ব্যস্ত ভারী ।

ছেলে গিয়ে ডাক্তার বাবুর পা জড়িয়ে ধরে,
“ডাক্তার বাবু, কি হোল মা'র, কথা বলবে কেমন করে ?”

ডাক্তার বাবু দেখে বলেন, “আটকে গেছে চোয়াল ।
বাড়ি বসে, উনি কি আজ গাইতে ছিলেন খেয়াল ?”

বৌ বলল, “রোজ সকালে, আমার উপর চেঁচান নিয়ম মেনে,
আজ 'লক্ষ্মীছাড়া, পোড়ার', বলে হঠাৎ গেলেন থেমে ।“

ডাক্তার বাবুর হাতের চাপে চোয়াল গেল খুলে,
শাশুড়ি মা ও উঠে বসলেন “...মুখী” কথাটি বলে ।

(প্রয়াত সাহিত্যিক শ্রদ্ধেয় 'বনফুল' এর একটি ছোট গল্প অবলম্বনে আমার এই কবিতা)

------------------------------------------------------------------------
Contributed by: Kalyan Kumar Basu in WaaS / 01 October 2010

Sep 25, 2015

নারায়ণ নিদ্রা গেছেন

|| নারায়ণ নিদ্রা গেছেন ||


সকাল বেলা সিধু বাবু ঠাকুর ঘরে এসে,
ভাবতে ছিলেন, কি হবে আজ বিজু বাবুর কেসে ।
বিজু বাবুর জমিটা, সিধুর জমির পাশে,
বন্ধু ছিলেন, শত্রু হলেন গত কয়েক মাসে ।
কয়েক কাঠার ঝগড়া নিয়ে, মামলা আদালতে,
জমির দামের বেশী গেছে, উকিল বাবুর পেটে ।
সিধু বাবু খালি পেটে, ঠাকুর ঘরে এসে,
'হে নারায়ণ, জিতিয়ে দাও, আজকের এই কেসে ।
বিজু বাবু ও কম যান না, তিনি ও ঠাকুর ঘরে,
তিনি ও ডাকেন, 'নারায়ণ, সিধুকে দাও মেরে ।'

নারায়ণ শুনতে পেলেন বৈকুন্ঠে শুয়ে,
দুই জনের আর্জি শুনে, শুলেন বাঁ-কাত হয়ে ।

অফিসে তে ইঁদুর-দৌড়, সবাই চাইছে প্রমোশন,
পদ তো খালি একখানি, যাবে তো এক জন ।
লেঙ্গি মারা চলছে ভীষন, কি হবে সেই নিয়ে,
ফুল-মিষ্টি-প্রণামি ঘুঁষ, মন্দিরেতে গিয়ে ।

নারদ মুনি, করলেন রিপোর্ট নারায়ণ কে গিয়ে,
পাশ ফিরে শোন নারায়ণ, চাদর মুড়ি দিয়ে ।

অতুল, রাতুল দুই জনেতেই এক ই ক্লাসে পড়ে,
প্রথম স্থানটি বাঁধা থাকে কোনো একজন করে । 
মাধ্যমিকে দু জনেতেই ভগবান কে ডাকে,
ফল বেরুলে, যেন আমিই থাকি অন্যজনের আগে ।

ভগবান তো জেগেই ছিলেন, শুনতে সবই পান,
আগ মার্কা সর্ষের তেলে, নাকে দিলেন টান ।
ভাবতে বসেন গভীর ভাবে, কি ভাবে এ হয়,
সব্বাই কে জিতিয়ে দেওয়া তাঁর কর্ম নয় ।

বিপদ বুঝে যোগ-নিদ্রায় ঠাকুর নারায়ণ,
কেউ জানি না, এই নিদ্রা তার চলবে কতক্ষণ ।।

(প্রয়াত সাহিত্যিক শ্রদ্ধেয় 'বনফুল' এর একটি ছোট গল্প অবলম্বনে আমার এই কবিতা লেখার ক্ষুদ্র প্রয়াস)

--------------------------------------------------------------------------------------------------
Contributed by: Kalyan Kumar Basu in WaaS / 25 September 2015

Sep 22, 2015

ঘ্রাণেন

|| ঘ্রাণেন ||


শিব্রাম গেছিলেন চাইনিজ হোটেলে,
চীনা খাওয়া কভু তার জোটে নি তো কপালে ।

মেনু কার্ড দেখে তিনি জল খান এক গ্লাস,
কি সব যে লেখা আছে এটা সেটা ছাইপাঁশ ।

চোখ ওঠে কপালে, ডান দিকে দেখে দাম,
শিরদাঁড়া কেঁপে গিয়ে, কপালেতে জমে ঘাম ।

অর্ডার নেবে বলে, কাছে এলো ওয়েটার,
কম দামে, এনে দিল মিনারেল ওয়াটার ।

পেটে ছুঁচো মারে ডন, পকেটে পয়সা নাই,
শিব্রাম ভাবে বসে, কি করে খাবার পাই ।

চারিদিকে খায় সব উপাদেয় খাদ্য,
চাইনিজ খাবারের কি দারুণ গন্ধ ।

জল খেয়ে ভাবে বসে, খাওয়া যায় কেমনে,
তখনি এলো তার সেই শ্লোক স্মরণে ।

"ঘ্রাণেন অর্ধ-ভোজন" বলেছিল পণ্ডিত,
বার বার ঘ্রাণ নিলে, পেট ভরা নিশ্চিত ।

এই ভেবে বসলেন, কিচেনের পাশেতে,
গন্ধেই ভরাবো পেট, এই বড় আশা তে ।

বড় বড় শ্বাস নিয়ে, নাক ভরে গন্ধ,
দেখে তাই, ম্যানেজারের লাগে বড় সন্দ ।

ডেকে বলে, "ওই খানে করছ কি বাঙ্গালি,
গন্ধ টা চুরি করে পেট কেন ভরালি?

গন্ধটা আমি আজ দেব না কো ফোকটে",
শিব্রাম দেখালেন, দু’টি টাকা পকেটে ।

টাকা দু’টি হাতে নিয়ে ঠনঠন বাজালেন,
'দামটা শোধ হোল', এই বলে হাঁটলেন ।

ম্যানেজার রেগে বলে, "মস্করা-ঠাট্টা,
ধরে আন ব্যাটাকে মারি তিন গাঁট্টা ।"

শিব্রাম বললেন, 'খেয়েছি তো গন্ধ,
দাম তার দিয়েছি, টাকাটার শব্দ ।

যেমন খেয়েছি আমি, দাম তার তেমনি,
চীনে বাবু, তুমি আজও বাঙ্গালিকে চেন নি ।'
………………………………………
প্রয়াত শিশু-সাহিত্যিক শ্রদ্ধেয় শিব্রাম চক্রবর্তী র গল্প-অবলম্বনে আমার শ্রদ্ধার্ঘ্য - কল্যাণ কুমার বসু, ২২/৯/২০১৫

----------------------------------------------------------------------------------------------------
Contributed by: Kalyan Kumar Basu in WaaS / 22 September 2015



Jul 13, 2015

অবসর জীবন

|| অবসর জীবন ||

(প্রথমেই বলে রাখি, আমি একজন শান্ত-শিষ্ট, পত্নী-নিষ্ঠ ভদ্রলোক, ঘাড়ে আমার একটি মাথা, চাই না সেটায় পড়ুক কোপ । তাই জানাই, এই কবিতার 'স্ত্রী' চরিত্রটি কাল্পনিক ।)

চল্লিশ বছর চাকরি করে যখন নিলাম অবসর,
মনটা খুশী, আরাম করে দেখব এবার খোশখবর ।
সন্ধ্যাবেলায় সেদিন আমি দেখছি বসে ক্রিকেট ম্যাচ,
গিন্নি গেছেন পাশের বাড়ি, মাথায় নিয়ে নানান প্যাঁচ ।
হঠাৎ তিনি ঘরে ঢুকে, বলেন আমায় রিমোট দাও,
দেখব আমি "মা" সিরিয়াল, এখন তুমি বাইরে যাও ।
করুণ সুরে বলি আমি, "দেখছি যে এক দারুণ ম্যাচ ।"
গিন্নী বলেন, "বললে বেশি, দেখবে আমার লিগ্যাল প্যাঁচ ?
বললে কথা, ডাকবো পুলিশ, ৪৯৮ ধারায় কেস দেবে,
এখন থেকে বলবে কথা, এদিক-ওদিক সব ভেবে !"
হতাশ হয়ে ভাবি আমি, কি দরকার এই খুড়োর কল,
স্বামীরা তো এমনি কাবু, যখন বউ এর চোখে গঙ্গাজল ।।

---------------------------------------------------------------------------------------
Contributed by: Kalyan Kumar Basu in WaaS / 13 July 2015

Jul 11, 2015

একটু উল্টোপাল্টা

|| একটু উল্টোপাল্টা ||


''ঘরবাড়ি' না বলে 'বাড়িঘর' বলা যায়, 'খাতাবই' না বলে 'বইখাতা' বলা যায়, 'জামাকাপড়' না বলে 'কাপড়জামা' বলা যায় অথচ এমন কিছু শব্দ আছে সেখানে এই ধরনের পরীক্ষা নিরীক্ষা চলে না । মানেটাই পালটে যায় ।

সেদিনের কথা । রাত তখন প্রায় পৌনে এগারোটা । আমার এক প্রতিবেশী ঘেমে নেয়ে হন্ত-দন্ত হয় কোথা থেকে ফিরছিলেন । জিজ্ঞাসা করলাম,
- এই ফিরলেন ?
- আর বোলো না, গড়িয়া মোড় থেকে হেঁটে ফিরলাম । একটা কিচ্ছু নেই ।
আমি মুখ ফসকে 'গাড়িঘোড়া' বলতে গিয়ে বলে ফেললাম,
- সে কী ঘোড়াগাড়ি পেলেন না ?'
ভদ্রলোক গম্ভীর হয়, বেশ কড়া সুরে বললেন,
- সব সময় ইয়ার্কি ভাল লাগে না কল্যাণ বাবু I রাতে ঘোড়াগাড়ি করে ফিরব...কী বলতে চাও ?

রাগ হওয়াটা স্বাভাবিক । কিছুদিন আগে পাড়ারই কেউ একজন ওঁকে 'আপনার ছেলেমেয়ে ক'টি না জিজ্ঞাসা করে দুম করে বলে ফেলেছিলেন, 
- আপনার ***** ক'টি ?
-----------------------------------------------------------------------------------
Contributed by: Kalyan Kumar Basu in WaaS / 11 July 2015

May 8, 2015

ইলিশ-পুরাণ

|| ইলিশ-পুরাণ ||


ইলশ্য নামেতে মৎস্য ছিল সত্য যুগে,
এক কড়ি মূল্যে, একশ খাইত হাসিমুখে

দ্বাপরে তে সেই মৎস্য ইলিশ্যা হইল,
এক তাম্র মুদ্রাতে কৌরব খাইল |

ত্রেতা যুগে ইলিশা হইল লোকমুখে,
এক টঙ্কায় বিয়া বাড়ি খাইত মহাসুখে |

কলি যুগে সেই মৎস্য ইলিশ হইল,
গঙ্গা-পদ্মা নদীই জুড়ে রসনা জুড়াইল |

কোথা হইতে কি হইল, গঙ্গা-ইলিশ নাই,
হাজার টাকা কিলো বলে, কেমন করে খাই |

ইলিশ হবে ডোডো, আসছে চোখে জল,
জ্ঞানী-গুণী রিসার্চ করে, ঘণ্টা হোলো ফল |

অশ্রুপাতে শেষ হোলো ইলিশ পাঁচালি,
কবি কল্যাণ কহে, শোন, দুর্ভাগা বাঙালি ||

-----------------------------------------------------------------------------------------------
Contributed by Kalyan Kumar Basu in WaaS / 08 May 2015