"); -->

Jan 19, 2015

মিহির কুমার উপাখ্যান

|| মিহির কুমার উপাখ্যান ||


(মিহির কুমার মজুমদার জি.ই.সি থেকে ভি.আর.এস নিয়ে নিউ এলেনবেরী ওয়ার্কসে ওনার এক্স-বস জে.এন. দত্তর - ইনিও জি.ই.সি থেকে ভি.আর.এস নিয়ে এসেছিলেন - পি.এ. হয়ে ১৯৯৫ এ জয়েন করেছিলেন । এবার আমাকে কী ভাবে মিহির পাকড়াও করলেন শুনুন :

শুনুন শুনুন সুধী জন - 'মিহির কুমার উপাখ্যান'-
মজুমদার যে উপাধি তাঁর, জীবন-গাথা অমৃত সমান
আদি নিবাস ওপার-বাংলা, জিলার নামটি - চট্টগ্রাম,  
শুঁটকী মাছের Preparation খেয়ে বড়ই তৃপ্তি যে পান ।
এ পারে তে সন্তোষপুর - বাড়ী তিন তলা হেথায়,
চার কন্যার জনক তিনি, স্ত্রী কে নিয়ে থাকেন সেথায় ।
মেয়েরা তাঁর শান্ত-শিষ্ট - পড়াশুনায় মনযোগী, 
পাত্র খোঁজেন ব্যস্ত হয়ে - বড় মেয়ের বিয়ের লাগি ।
জি.ই.সি তে কর্মরত ছিলেন তিনি - চব্বিশ সন, 
স্বেচ্ছা অবসরের সুযোগ নিলেন তিনি সময় মতন ।
জে.এন.ডি তো ওনার কাজে খুশি ছিলেন বরাবরই, 
এখানেতে করে নিলেন - নিজের কাজে 'সহকারী' ।
চেহারা টা বলছি ওনার - শুনুন সবাই মনটি দিয়ে, 
ঠিক যেন এক নীমের দাঁতন - দাঁতের চাপে চিবিয়ে নিয়ে ।
তাই বলে তাঁর স্বভাবটা ভাই নীমের মতন তেতো বলে -
ভুলেও যেন কেউ না ভাবে - বুঝতে পাবেন আলাপ হ'লে ।
রেল ইঞ্জিনের 'Cow-Catcher' এর মতো দাঁতের উপর-পাটি -
তাহার মাঝে দেখি যে ফাঁক - ঝরে গেছে একটি-দুটি ।
কানের উপর,  মাথার পিছে দু-চার টি চুল লেপটে আছে, 
মাঝখানে তে চকচকে টাক - মাছি বসেই পিছলে গেছে ।
চোখের উপর চশমা আঁটা,  বাই-ফোকালের লেন্স টি দিয়ে -
দেখা হলেই দু-কান এঁটো হাসি হাসেন খুশী হয়ে ।
হেঁড়ে গলায় গানটি ধরেন যখন তখন কাছে আসি - 
সুধীরলাল-এর বিখ্যাত গান - "মধুর আমার মায়ের হাসি" ।
এরপরেতেও বলেন আবার - "শুনবে নাকি শ্যামল মিত্র ?”
কিম্বা শোনাই সতীনাথের - শুনলে পরে ভরবে চিত্ত" ।
ধাঁধাঁর প্রশ্ন সুরু হবে গান শুনতে নারাজ হলে, 
প্রশ্ন রেখেই উত্তরটাও সাথে সাথে দেবেন বলে ।
যদি শুধান "উত্তরটা ভাবার সময় দিলেন কোথায় ?”
কানে কানে বলে দেবেন - "জানিয়ে রাখি শুধুই তোমায়" ।
খোঁজ নিলে যে জানতে পাবেন - সবার কাছে একই ধাঁধাঁ -
জিগ্যেস করেই উত্তরটাও বলে দেছেন - মিহির দাদা ।
এই বয়সেও ফটো তোলার শখটি আছে ষোল-আনা, 
ন-হাজার-এক (ISO - 9001) সেমিনার-এ শুধুই করেন আনাগোনা । 
টিভি-র ছবি তোলার সময় - হঠাৎ দেখি সামনে গিয়ে -
দত্ত-স্যার এর কাছটি ঘেঁসে দাঁড়িয়ে গেছেন সুযোগ নিয়ে ।
ক'দিন আগে খামখেয়ালে কলমেতে কালি ভরে,  
লিখেছিলাম একটা 'ছড়া' - 'কর'-এর নামে ঠাট্টা করে ।
সেটাই হ'ল 'কাল'যে আমার,  কারণ সেটা - 'Xerox' করে - 
বিলিয়েছিলাম বন্ধু জনে বেছে বেছে একটা করে ।
কি করে ভাই মিহির দাদা পড়েছে তার একটা 'কপি',
চড়াও হল আমার উপর - ধরল আমার টুঁটি চাপি ।
দাবি তাহার লিখতে হবে - তাহার নামে একটা 'ছড়া',
না হলেই যে হবে আমার 'ধড়ে'র থেকে 'মুণ্ড' ছাড়া ।
এই কবিতা পড়ে যদি বলে আমায় - 'হারামজাদা' - 
কিম্বা মাথায় 'গাঁট্টা' মারে - তার আগেতেই পালাই দাদা ।

------------------------------------------------------------------------------
এই ছড়াটা লিখে মিহির বাবু কে দেবার পরের দিন ই আমাকে নিয়ে টানাটানি - ওনার বাড়ী তে যেতে হবে - ওনার মেয়েরা ও স্ত্রী নাকি আমাকে একবার দেখতে চেয়েছেন - খুব ঘাবড়ে গিয়ে বললাম - "কেন তেনারা কি আমাকে - 'ছাই পেতে কাটবেন' না ঝাঁটা পেটা করবেন" ? তিনি তো নাছোড়বান্দা - (বুঝলাম আস্ত পাগলের পাল্লায় পড়েছি ) মুখে বললাম - "দাঁড়ান আর একটা ছড়া লিখে দিচ্ছি - সেটা এবার দেখান - তারপর না হয় "
------------------------------------------------------------------------------

|| মানুষ চেনো ||

জীবনপথে চলার সময় - নানা রকম মানুষ দেখি, 
ব্যবহারিক মেলামেশায় - ওপর ওপর আলাপ রাখি ।
ঘরে,বাইরে,কর্মক্ষেত্রে - সবাই দেখি একই ধরণ -
নিজের টা ঠিক বুঝে নেবে,  হোক না তাতে পরের মরণ ।
এদের মাঝে কাউকে আবার - হঠাৎ কেমন ভাল লাগে, 
যতই মিশি অবাক যে হই - এমন মানুষ পাইনি আগে ।
ভিতর-বাহির এক যে এদের,  পেটে মুখে একই কথা, 
কথা যতই সামান্য হোক - নাই বা বলুক 'তত্ত্বকথা' ।
চেহারা বা জামাকাপড় চেকনাই খুব নাই বা হ'ল, 
ভিড়ের মাঝে হারিয়ে গেলেও - মনে কিন্তু জ্বালে আলো ।
মিশলে পরে - আলোকের সেই দীপ্তিখানি পড়ে ধরা, 
চট করে তা বুঝবে কি কেউ ? চোখে যে সব 'ঠুলি' পরা ।
প্রকৃতি টা এদের শুধু 'সাদাসিধে' হয় বলেই তো - 
সবাই এদের ঠাট্টা করে - মানে - কেবল লাগায় 'গুঁতো' ।
তবুও এরা হেসে হেসে সবার সাথেই সমান মেশে, 
সামনে সবাই বলে - 'ভালো',  আড়ালেতে সবাই হাসে ।
ভাবছ বুঝি কল্পনাতে লিখছি এমন লোকের কথা ?
কল্পনা নয় - তাকিয়ে দেখো বসে আছে ওই যে হোথা ।
শুকনো ডাঙায় আছাড় খেলে,  ভুলেও কভু ভাবো নি তো -
মিহির কুমার মজুমদার কে দেখাবো যে বোঝো নি তো ?
যদিও আলাপ অল্পদিনের - মাত্র বছর খানেক হল, 
একে সঠিক চিনতে হলে মনের আঁধার দূরে ঠেলো ।।

-------------------------------------------------------------------------------
এই দ্বিতীয় ছড়া টি লেখার পরেও কিন্তু ছাড়া পেলাম না - এ দুটি লিখেছিলাম - মার্চ মাসে, ১৯৯৫ সালে,  পরে নভেম্বরে আবার এসে ধরলেন - ওনার ছোটো মেয়ের জন্মদিন (১৮ বছর পূর্ণ হবে - সামনের ১১ তারিখ),  উনি কেকের প্যাকেটে একটা 'আশীর্বাদী' কবিতা দিতে চান - সেটা আমাকে লিখে দিতে হবে - কি আর করি - 'পড়েছি মোগলের (পাগলের) হাতে - খানা খেতে হবে সাথে' - ওনার মেয়েদের নাম ও বিবরণ জেনে নিয়ে - আবার কলম ধরতে হল ...
-------------------------------------------------------------------------------

||  নবমিতা (মেরী ) ||

আজ থেকে ঠিক আঠারো বছর আগে,  এসেছিলি কোলটি আলো করে, 
হেমন্ত কাল,  রাত্রি ছিল গভীর - 'মেরী' আসে মোদের কুঁড়েঘরে ।
চারটি মেয়ে - লক্ষ্মী,  সরস্বতী - ভগবানের আশীর্বাদের দান, 
মেয়েরা সব শান্ত-শিষ্ট খুবই,  বাবা মায়ের রাখবে এরা 'মান' ।
নাই বা থাকুক টাকা - হাজার হাজার,  মাথার উপর ছাদ তো আছে পাকা, 
সুখে - দুখে দিন তো কেটে যায় - গড়িয়ে চলে সংসারেরই চাকা ।
শিশির ধোয়া শিউলি ফুলের মত - মেয়েরা সব ছড়িয়ে থাকে ঘরে, 
পড়াশুনায় সবাই মনযোগী,  বড় দু-জন ভালই চাকরী করে ।
রান্না-বান্না গৃহস্থালির কাজ - মেয়েরা সব নেয় যে ঘাড়ে তুলে,  
আমি শুধু টাকা দিয়েই খালাস, মেয়েরা সব মায়ের কথায় চলে ।
মেয়েদের কে ডেকে আমি বলি - "কাউকে কভু ছোট ভেবো নাকো, 
নিজের কাজে পারদর্শী সবাই - রাজমিস্ত্রি,  জেলে - এদের দেখো ।
মর্যাদাটা দেখাও যদি সবে - ফিরে পাবে সেটা তাদের থেকে"।
সব মেয়েরাই সেটা মেনে চলে,  লক্ষ্মী মেয়ে - বাবার কথা রাখে ।
নবমিতা - সবার ছোটো বলে,  সব দিদিরাই স্নেহ করে ওকে,  
'মুক্তি' আবার এদের মধ্যে বেশী - ছোটোর 'বায়না' মেটায় নিজের থেকে ।
এবার পূজায় আমায় দেবে বলে - পাঞ্জাবী আর পাজামা এক সাথে -
দিদিরা সব টাকার জোগাড় করে,  'মেরী' ও দেয় পাঁচটা টাকা যে তাতে ।
দু,চার টাকা টিফিন খরচ থেকে বাঁচিয়ে ছিল সামান্য যা পায় -
বাবা কে সে কত ভালবাসে,  এই ঘটনাই প্রমাণ তাহার দেয় ।
মা ও বাবার আশীর্বাদের চেয়ে,  পৃথিবীতে নেই যে কিছু বড় -
স্বাতী, মুক্তি, কস্তু, মেরী'র শিরে - মোদের আশিস সদাই ঝরঝর ।

----------- ------------- --------------- -------------
আজকে মেরীর জন্মদিনে - দিলাম তারে স্নেহের চুমা, 
সুস্থ দেহে কাটুক জীবন - সফলতা হারাক সীমা ।
জীবন পথে চলার কালে সামনে তোমার বন্ধুর-পথ, 
'ন্যায়' ও 'সত্য' অশ্ব জুড়ে - চালাও তোমার জীবন-রথ ।
'নবমিতা' নামটি তোমার সার্থক যে তখন হবে -
যখন তোমার ব্যবহারে - লোকে তোমায় 'মিতা' ক'বে ।
আঠারো দল পাপড়ি শুধু মেলল যে আজ আমার 'মেরী'-
রূপে,  গুণে,  হোক শতদল - সেদিনের আর নাই কো দেরী ।। 
----------------------------------------------------------------------

Contributed by Debkisor Chakrabarti / 19 January 2015

No comments: