।। আমার মনে অনেক দুঃখ ।।
যখন প্রথম WaaS গ্রুপে জয়েন করি, সেখানে অনেক সুন্দর সুন্দর পোষ্ট দেখে মনটা ভরে যায় । অলোক চ্যাটার্জি, সুদীপ রায়, কমল কুমার দত্ত, অরবিন্দ ঘোষ মহাশয়দের পাঠানো ছবিগুলি দেখে ভাবতাম, ইস! আমি যদি ওনাদের মতন ছবি তুলতে পারতাম !
সেই প্রথম আমার মনে দুঃখের উদয় হয় ।
রবীন ব্যানার্জি, সোমনাথ বাবু, সুদীপ রায়, মিল্টন পাল মহাশয়দের লেখা অসাধারণ কবিতাগুলি পড়ে ভাবি আমি কেন ওঁদের মতন লিখতে পারি না ।
এই ভেবে আবার মনে দুঃখ হয় ।
শিবাজী গাঙ্গুলি এবং কমল দত্ত মহাশয়দের পুরনো দিনের কোলকাতা ও বিখ্যাত ব্যক্তিদের বিরল ছবিগুলি দেখি আর ভাবি আমি কেন এরকম ছবি কোথাও খুঁজে পাইনা । সুদীপ রায় মহাশয়ের World's Acclaimed Photography ও দুর্ধর্ষ Sketch গুলি অবাক বিস্ময়ে দেখি, আর ভাবি আমি তো এঁদের কাছাকাছি কোন দিনই পৌঁছুতে পারব না ।
তাই আমার মনে অনেক দুঃখ ।
আর ফিলিপ্স বিশ্বাস মহাশয় তো জ্ঞানের ভাণ্ডার । রামায়ণ, মহাভারত, বেদ, উপনিষদ, পুরাণের কাহিনী তথা দোলা বৌদি এবং ডাক্তার বাবুর রসপূর্ণ লেখাগুলি পড়ি, আর দীর্ঘশ্বাস ফেলে ভাবি আমি কেন ওনাদের মতন লিখতে পারি না ।
আর কমল বাবু তো WaaS-এর Encyclopedia ! সব মেম্বারদের জন্মদিন ওনার জানা । সুদীপ রায় মহাশয়ও কিছু কম যান না । সারা বিশ্বের সব বিখ্যাত ব্যক্তিদের জন্মদিন ওনার জানা । দেখি আর ভাবি আমি কেন ওরকম তথ্য যোগাড় করতে পারিনা!অরবিন্দ ঘোষ মহাশয়ের সুস্বাদু রেসিপি গুলি দেখি আর মনে মনে ভাবি আমি কেন এ রকম পারি না ।
মিল্টন পাল ও প্রবীর আচার্য মহাশয়দের ইঙ্গ-বঙ্গ সরল অভিধানে মাঝে মাঝে নাক গলাবার দুঃসাহস করে, পরে হাল ছেড়ে দিয়েছি । বুঝে গেছি অত হাই লেভেলের ব্যাপার আমার দ্বারা হবেনা । আর শোভন রায় মহাশয় তো Jokes & Humour- এর রাজার রাজা রাজাধিরাজ! দেবকিশোর বাবু, প্রদীপ চ্যাটার্জি, গৌতম সেন, অরবিন্দ ঘোষ, সৌমেন বাবুরাও হাস্যরসে কোন অংশে কম যান না । আমি তো এরকম কিছু পারি না ।
তাই আমার মনে অনেক দুঃখ ।
আর ফডনভিস সাহেবের দেশের উদয়ন দাসগুপ্ত মহাশয় তো কমেন্ট-সম্রাট । যদিও সেগুলি ভীষণ হাই লেভেলের । উমেশ দুবে, শিশিরদা আর বিনায়ক বাবু, জ্যোতির্ময় দাস সাহেব –ওনারা তথ্যসমৃদ্ধ যুক্তিপূর্ণ কমেন্টসমূহ অতি সুন্দর ভাবে পেশ করেন । ওগুলো পড়ি আর ভাবি আমি তো এত সুন্দর ভাবে লিখতে পারব না ।
তাই আমার মনে অনেক দুঃখ ।
একদিন কবিতা লেখার চেষ্টা করে খুব ভোরে উঠে জানালার ধারে কাগজ-কলম নিয়ে বসি । দেখি সামনের ফুলগাছ গুলোতে হেমন্তের শিশিরের ছোঁয়া লেগেছে । মুড এসে গেল – লিখে ফেললাম,
"পাতায় পাতায় পড়ে শীতের শিশির"
প্রথম লাইনটা লিখে মনটা খুশীতে ভরে গেল । কিন্তু, এরপর অনেক চেষ্টা করেও কিছুই মনে আসল না । এমন সময় দেখি, পাড়ার বিনুর পিসি ফুল তুলতে বেরিয়েছেন । ব্যস, ওমনি লিখে ফেলি:
"তাতে কিবা আসে যায় বিনুর পিসির"
গিন্নিকে দেখাতে উনি তো পড়ে রেগে কাঁই । এরপর আর কোনদিন দুঃসাহস করিনি ।
তাই আমার মনে অনেক দুঃখ ।
কিন্তু এতসব দুঃখ ছাপিয়ে মনটা প্রসন্নতায় ভরে উঠে যখন ভাবি এই গ্রুপে আসার পরই তো কত জ্ঞানী-গুণী লোকের সান্নিধ্যে এসেছি । জানতে ও শিখতে পেরেছি অনেক নতুন জিনিস ও তথ্য যা এই বার্ধক্যয়ের পথে চলার পাথেয় । এ যেন চাঁদের হাট ! Constellation of Stars! কাকে ছেড়ে কার কথা বলব !
গতবারের মত এবারও পুজোয় গ্রুপের ম্যাগাজিন "সন্ধ্যারাগ" মহালয়ার আগে প্রকাশিত হচ্ছে । আপনাদের সবাকার লেখনীর অমৃত সুধারস থেকে নিঃসৃত সেইসব গল্প, কবিতা, ছবি, তুলিকলা, কৌতুকে ভরা সেই পত্রিকার আশায় অধীর আগ্রহে দিন গুনছি ।
এই ভেবে আমার মন এখন পুলকে ভরপুর । এখন আর আমার মনে কোন দুঃখ নেই ।
-----------------------------------------------------------------------------------------------
Contributed by: Shyamal Kumar Das in WaaS / 22 September 2015
No comments:
Post a Comment