"); -->

Sep 20, 2015

সামান্য কথা

|| সামান্য কথা ||


গল্পের নানা বইতে নানা গল্পে ‘পাঁজর ভেঙ্গে দেবার’ কথাটা অনেকবার পড়েছেন শরদিন্দু বাবু ।  ভাবতেন লেখকরা আবেগপ্রবণ আর অনুভূতিশীল মানুষ ।  তাই বাড়িয়ে বাড়িয়ে অনেক কথা লেখে ।  বাস্তবটা অন্য রকমের ।  লেখকদের আর বাস্তবের ওপর দখল কতটা? ওরা তো নিজেদের লেখা নিয়েই থাকে । 

বিল্টুকে নিয়ে চলে গেল ওর বাবা মা ।  অনেকদিন ছিল ছেলেটা ।  একটা বিদেশী ওষুধের কোম্পানিতে কাজ করে সুশোভন ।  তাঁর ছেলে ।  এতদিন সমস্যা ছিল না ।  কোলকাতায় অফিস হওয়ায় এখানেই ছিল । 

ছেলের ভাল বিয়ে দিয়েছেন ।  রূপসী বৌ এসেছে ঘরে ।  আর তার বছর দুয়েকের মধ্যে বিল্টু এসেছে ।  আদর করে নাতিকে ডাকেন রাজপুত্তুর বলে ।  কথায় বলে থার্ড জেনারেশনের সঙ্গেই নাকি সব মানুষের খুব সদ্ভাব ।  তাই ছেলেমেয়েরা দূরে সরে গেলেও নাতি নাতনিরা ঠিক কাছে চলে আছে ।  মানে মনের কাছে । তার সঙ্গেই যত গল্প, যত কিছু আবদার ।  এই বয়েসে তাকে পিঠে নিয়ে ঘোড়া ঘোড়া খেলেন ।  সমবয়সী বন্ধুরা দেখে বলে, তুমি কি আবার ছেলেমানুষ হয়ে গেলে নাকি?
- অনেকদিন হয়ে গেছে তো তাই ভুলে গেছি ছেলেমানুষ হলে কেমন লাগে ।  হেসে উত্তর দেন শরদিন্দু বাবু ।  

সেই বিল্টুরা আজ চলে গেছে ।  কি করবে সুশোভনের ট্রান্সফার ।  ব্যাঙ্গালোর অফিসে বদলি করে দিল ।  এটা অবশ্য হওয়ারই ছিল ।  কিন্তু নাতির স্বপ্নে বিভোর দাদু মনকে তৈরি করতে পারেন নি ।  তাই এবার যথার্থই ‘পাঁজর ভেঙ্গে যাওয়ার’ উপমাটাই ঠিক মনে হল ।  আর মনে হল গল্পের লেখকরা কোনও কল্পজগতের মানুষ নন ।  কল্পনা দিয়ে লিখলেও বাস্তবের কথাই লেখেন তাঁরা ।  

ব্যাঙ্গালোর চলে গেলেও বাবার জন্যে সব ব্যবস্থা করে দিয়ে গেছে সুশোভন ।  ঠিকে ঝি ছাড়াও দুবেলা রান্নার একটা লোকের বন্দোবস্ত করে দিয়ে গেছে । সব আছে ।  সুখের কোনও অভাব রাখে নি ছেলে ।  বৌমাও খুব ভাল ।  রান্নার লোককে সব বুঝিয়ে দিয়ে গেছে ।  একজন বয়স্ক ব্যক্তির রান্নায় কেমন তেল মশলা দিতে হবে ।  খুব ভাজা ভুজি হবে না ।  সব সব ।  

সুখের অভাব নেই তবু অসুখে পড়লেন শরদিন্দু বাবু ।  পাঁচ ছ মাস যেন পাঁচ ছটা যুগের মত মনে হচ্ছিল ।  মাঝে মাঝে ছেলে আর বৌমা ফোনে কথা বলে ।  কিন্তু   সে এখন পড়ছে ।  স্ট্যান্ডার্ড ওয়ান হল না ? খুব পড়ার চাপ ।  সময় কই ?
ডাঃ গোস্বামী নিয়মিত চেক আপ করে যান ।  প্রেশার বাড়ছে দেখে ওষুধের ডোজ বাড়িয়ে যান ।  
- আরিব্বাস, সুগারটাও ধরিয়েছেন ? ডাঃ গোস্বামী বলছিলেন, আমার একটা গর্ব ছিল মশাই আপনাকে নিয়ে ।  এত বয়েস পর্যন্ত সুগারকে ঠেকিয়ে রাখা তো চাট্টিখানি কথা নয় ।  সেই আপনি কিনা … না এত রকম সিম্পটম তো হেলাফেলার বস্তু নয় ।  
ডাঃ গোস্বামী সাজেস্ট করলেন, বলি কি নার্সিং হোমে একবার ভর্তি হয়ে যান ।  মেডিক্লেম যখন করাই আছে ।  ছেলে তো আপনার খুব ভাল ।  সব ব্যবস্থা করেই গেছে ।  
নার্সিং হোমে ‘একবার’ বেড়ান হল বটে কিন্তু অসুখ গেল না ।  ডাঃ গোস্বামী টক খাওয়া মুখ করে প্যাডে নতুন টেস্ট লিখতে যাচ্ছেন এমন সময় ফোনটা এলো । 
- হ্যালো দাদু আমি বিল্টু বলছি ।  তোমার রাজপুত্র গো । 

ডাঃ গোস্বামীকে আর নতুন টেস্ট লিখতে হয় নি ।  কেননা ‘রাজপুত্র’ বলেছিল, আমি রোজ একবার করে ফোন করব ।  বাবা মা দুজনেই পারমিশন দিয়েছে । 

- অরুণ চট্টোপাধ্যায় / ২০/০৯/২০১৫
------------------------------------------------------------------------------------------------------
Contributed by: Arun Chattopadhyay in WaaS / 20 September 2015

No comments: