|| বয়সের হিসাব, আজব হিসাব ||
কথায় আছে "ছেলেদের মাইনে বাড়তে থাকে. মেয়েদের বয়স বয়স কমতে থাকে ... ।" মাঝে মাঝে এই হিসাব কষতে বসে চক্ষু কপালে উঠে যায় । WaaS এ আসার পর আমার কয়েকজন পরিচিত এবং বন্ধুকে এখানকার সদস্য করে নেব ভেবেছিলাম, যারা আমারই সমবয়সী বা ৫/৬ বছরে বড় । দেখা সাক্ষাৎ হয় না. বার্ধক্যের বারানসি (WaaS) তে এসে আলাপ-বিলাপ-প্রলাপগুলো সমান ভাবে ভাগ করে নেওয়া যাবে অন্যান্য বন্ধুদের সাথে । হায়রে কপাল ! ... জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাতে গিয়ে দেখি - এখন তাদের কারোর বয়স ৫১ বছর, কেউ বা ৪৪... ! তাদের ছেলে-মেয়েরাই এখন ৩৫ বা ৪০ পার করে ফেলেছে ... !
আমার এক ফ্যাক্টরিতুতো দাদা "যোশী 'দা". জন্মসূত্রে বঙ্গবাসী । ১৯৮৬তে রিটায়ার করে চলে গিয়েছিলেন নাগপুরে । কোনও যোগাযোগ নেই, প্রায় ভুলে গিয়েছিলাম । একদিন আমার ল্যান্ডলাইনে একটা ফোন এলো, স্ত্রী ধরে কিছুই বুঝতে পারছে না । আমাকে ডেকে বলে – “দেখো তো তোমার কেউ চেনা. আমাকে বৌ'মা ... বৌ'মা করে চলেছে ।“ ফোন ধরতেই ওপার থেকে চিৎকার – “আরে দত্ত ! আমি যোশী'দা ... কেমন আছিস বল ?”
আমি আরও অবাক – “দাদা. আমাকে কিভাবে পেলেন. নম্বর টা কে দিলো ?” “হয়.হয় ... সবই হয় । আমি এখন ছোটো ছেলে ববির কাছে রয়েছি । তোর বৌদি কয়েক বছর হলো চলে গিয়েছেন ।“ (শুনেই খানিকটা চুপ করে গেলাম ।)
এরপর বললেন – “তোর একটা খুব ভালো খবর শুনেছি. কবে মিষ্টি খাওয়াবি বল ?” “কবে এখানে আসছেন. শুধু মিষ্টি কেন, যা বলবেন তাই খাওয়াবো কিন্তু ‘সুখবর’ টা কি ?” “কনগ্র্যাচুলেশান ! ... তোর ছেলে হয়েছে শুনেছি !”
“অ্যাঁ ... বলছেনটা কি ? এখন তো ও'রই বিয়ের সময় হয়ে গেল. খোঁজখবর চলছে । আমিও তিন বছরের বেশী হলো রিটায়ার করেছি ।“
“বলিস কি রে ! এইতো মাত্র সেদিন তোর বিয়েতে গেলাম ... ??? মাঝের তিরিশ বছরের স্প্যান ?”
…
অন্য একটি ঘটনা - ১৯৫৮ তে দিল্লী ছেড়ে কলকাতায় আসি আমার বয়স তখন ৮ বছর পূর্ণ হয় নি । আসার আগের দিন স্থানীয় ‘বেলা মাসীমা’ ও মেসোমশাই আমাকে একটা জলের বোতল উপহার দিয়ে গেলেন । ওনাদের ছেলে অসীমদা (আমার চেয়ে ১৫ / ১৬ বছরের বড়) তখন চাকুরী তে যোগ দিয়েছেন | পরে বদলী হয়ে কলকাতায় চলে আসেন । কিন্তু যোগাযোগ বিশেষ ছিল না ।
কলকাতায় আসার পর আমার জ্যাঠতুতো দাদার বন্ধু শক্তিদার সাথে পরিচয়, যিনি আমার চেয়ে ২৫/২৬ বছরের বড় । আমার বাবা-মাকে কাকাবাবু-কাকিমা বলতেন । অনেক আগে দিল্লীতে ছিলেন । কয়েক বছর হলো মারা গিয়েছেন (অসীমদা ও এখন নেই ।)
বছর ১৩ / ১৪ আগে অসীমদার সাথে আবার যোগাযোগ । গেলাম ওদের বাড়ি.নাতি-নাতনি নিয়ে সুখের সংসার । কিছু পরে ওনাকে বললাম – “দাদা একটু চলো আমার সাথে তোমাদের এইদিকেই একজনের সাথে দেখা করে আসি. দিল্লীতে ছিলেন. অনেক বয়স হয়ে গিয়েছে ।“
শক্তিদার কাছে দুজনে গেলাম । ঘুপচি ঘর, তক্তপোষে এলোমেলো বিছানা, পাশে রংচটা পুরানো টেবিল ফ্যান । ঘরের সাথে একঢিলতে বারান্দা । অসীমদার সাথে পরিচয় - বাবার নাম, মায়ের নাম, নানারকম নাড়ি - নক্ষত্রের খোঁজ । হঠাৎ - “আরে হাবু না ? এরপর - উল্লি বাবালে বাবা ! কত্তো বোলো অয়ে গেচিস ! কত্তো টুকুন দেকেচি, কোল্লে নিয়ে গুরেচি ... ! কত্তোবার আমার জামাকাপড় ভিজিয়েচিস ...... !”
এদিকে আমার উপস্থিতিতে অসীমদার মুখ লজ্জায় লাল । অবস্থা বেগতিক দেখে আমি বেরিয়ে বারান্দার এক কোনে গিয়ে দাঁড়ালাম ।
নীচে রাস্তার ধারে একটি দোকান থেকে একটি হিন্দি গান ভেসে আসছে - "সময় তু ধীরে ধীরে চল ... সময় তু ধীরে ধীরে চল ...... !! "
----------------------------------------------------------------------------------------------
Contributed by: Kamal Kumar Dutta in WaaS / 24 August 2015
No comments:
Post a Comment