"); -->

Jul 21, 2015

সুখের স্মৃতি

|| সুখের স্মৃতি ||


বন্ধু সিদ্ধার্থ চক্রবর্তী মহাশয়ের ২০ জুলাই ২০১৫ ‘র সুন্দর পোষ্টটির পরিপ্রেক্ষিতে অধমের একটি সংযোজনা !

সুখের স্মৃতি নিয়ে অবসরের বাকি দিনগুলো কাটানোই আমাদের আনন্দে বেঁচে থাকার উপায় ৷ সংসারে দু:খ বেদনা, সুখের ইতিহাস কে ঢেকে রাখে ৷ মাটি খুঁড়ে সেই ইতিহাস উদ্ধার করে বর্তমানকে আনন্দ বঞ্চিত করব কেন ?

আমাদের জীবন কাহিনী,বাল্য স্মৃতি,যৌথ পরিবারের যোগসূত্র, পারিবারিক ভালবাসার বন্ধন, তা আমার বা সমবয়সীদের কাছে একই ভাবে উজ্জ্বল এবং একই সুতোয় গাঁথা মুক্তমালা ৷ হাওড়ার এক অজ পাড়াগাঁয়ের বাল্যকালের যৌথ পরিবারে বেড়ে ওঠা, জল কাদা মাঠ ঘাট আম কাঁঠাল আটচালা পাঠশালা বাঁশবন মাছধরা যাত্রাপালা চড়ক গাজন, আদরে বাঁদর হওয়া, এসব স্মৃতিকথা বর্তমান প্রজন্মের কাছে অর্থহীন ৷ ঠাকুরদাদার ছয় পুত্র তিন কন্যা, ঠাকুরদাদারা তিন ভাই, তাঁদের স্ত্রী পুত্র আদি নিয়ে বিশাল পরিবার ৷

মনে আছে পুজোর সময় পরিবারের সব ছেলেদের নতুন জামা, সবই একই ছিটের কাপড়ে তৈরি, মেয়েদের ফ্রকও একই নকশার তৈরি করানো হত ৷ কাকা পিসিদের শাসনের থেকে আদর ছিল চারগুণ বেশি ৷ ভালবাসা এত গভীর ছিল যে,লঘু শাসনের পরে অনুশোচনার অনুতাপে তাঁদের ঠাকুরমার কাছে গিয়ে কাঁদতে দেখেছি ৷ সব দু:খ থাকত আদরের নরম চাদরে ঢাকা ৷ বলতে লজ্জা নেই, ঠাকুরমার স্তন মুখে নিয়ে মহাকাব্যের আর রূপকথার গল্প শুনতে শুনতে সাত সাগর তের নদী পাড়ি দিতাম, তাঁর গায়ের গন্ধ চোখ বুঝলে এখনও পাই ৷ ঠাকুরমার কোলের পাশটিতে নিদ্রা যাবার অধিকার নিয়ে আমাদের সাথে কাকা পিসিদের চলত মিষ্টি খুনসুটি ৷ তাঁদের কোলে পিঠেই শিশু থেকে বালক হয়ে যুবক হয়েছি ৷

আমার মমতাময়ী ঠাকুরমা ভাই ফোঁটার সময় বাপের বাড়ি মানকুর গ্রামে যেতেন, সাথে আমরাও দল বেঁধে যেতাম ৷ সেখানেও যে আদর পেয়েছি তা ভুলবার নয় ৷ ঠাকুরমার মা ও ছিলেন খুব মমতাময়ী, তাঁকে বড়মা বলতাম ৷ আমার ঠাকুরমাকে দেখেছি বাড়ির সব বৌমাদের খাবর পর খেতেন, সবার পাতে মাছ পড়ল কি না তার খবর রাখতেন ৷ সেকালে সধবাদের মাছ খাওয়া এক প্রকার বাধ্যতামূলক প্রথা ছিল ৷ মা কাকিমারা বলতেন "খুব ভাগ্যি যে এমন শাশুড়ি পেয়েছেন |” কালের নিয়মে সেই পরিবারও একদিন ভিন্ন হল, ছিন্ন হল যোগসূত্র, নগরবাসী হলাম শিক্ষা ও জীবিকার সন্ধানে ৷ বিবাহ কন্যাসন্তান পালন ও প্রতিষ্ঠার প্রস্তুতি দেখতেই অবসরের থাবায় হলাম হাবা ৷

একে একে নিকটাত্মীয়রা এমনকি আপনজনদের সাথে স্ত্রীও পাড়ি দিলেন পরলোকে ৷ স্ত্রীর হাতে সাজানো ঘরের সৌখিন দ্রব্য, আসবাব পত্র আক্ষরিক অর্থে জড় পদার্থের রূপান্তরিত ৷ এটা কিন্তু যন্ত্রণা নয়, কালের চক্র ৷ একমাত্র বিবাহিত কন্যা বিদেশবাসী ৷ এখন বেশ বুঝতে পারছি "একা এসেছি, একাই যেতে হবে" ৷ কবে যাব তাতো জানি না ৷ তবে হ্যাঁ, ভালবাসা দিলে যে ভালবাসা বহুগুণ হয়ে ফিরে আসে তা সত্যিই ঠিক ৷ আমার আত্মজ ছাড়াও, ভাইপো ভাইঝিরা, বোনপো বোনঝিরা, তুতো ভাই বোনেরা, সবার উপরে বন্ধুজনদের ভালবাসাই আমাকে বাকি জীবনে বেঁচে থাকার রসদ যুগিয়ে চলেছে ৷ 


WAAS এর বন্ধুদের বলি- যুগ ধর্ম মেনে চলুন, ভাল থাকুন, শ্রী ঠাকুরের কথায় শেষ করি "যখন যেমন তখন তেমন,যেখানে যেমন সেখানে তেমন"৷ মনের কথাটি বলিলাম ,এবার আমি চলিলাম ৷

অকুঘো /  শিকাগো
-------------------------------------------------------------
Contributed by: Arun Kumar Ghosh / 21 July 2015

No comments: