|| ভূত-কাহিনী ||
আজ যে কাহিনীটি আপনাদের শোনাবো সেটি কল্পকাহিনী নয়, একশো শতাংশ সত্যি । আমার অফিস ছিল ডালহৌসিতে । তিনটি সিঁড়ি অফিসের - শ্বেতপাথর, লাল সিমেন্ট আর সাদা সিমেন্ট এর । শুনেছি ব্রিটিশ আমলে সাহেবরাই শুধু পাথরের সিঁড়ি ব্যবহার করতে পারতো, বাবুদের জন্য লাল আর বেয়ারাদের জন্য সাদা সিমেন্টের সিঁড়ি বরাদ্দ ছিল । মাঝে বাবরি মসজিদের ঘটনার পর একদিকের সিঁড়ি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল ।
যাই হোক, প্রতিবছর আমাদের অফিসে ঘটা করে বিশ্বকর্মা আর সরস্বতী পুজো হত । একবার তো ঠাকুরমশাই এলেন না সরস্বতী পুজো করতে, রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গেটের পাশে যে হনুমান মন্দির আছে সেখান থেকে বিহারী ঠাকুরমশাইকে জোর করে ধরে আনা হল । তিনিও অম্লান বদনে হনুমান চালিশা পাঠ করে পুজো সেরে গেলেন । ভাসানের ব্যাপারে সকলেরই অনীহা ছিল বরাবর । বাবা-বাছা বলে হাতে কিছু টাকা গুঁজে বেয়ারাদের রাজি করানো হত ঠাকুর বিসর্জন দেবার জন্য ।
এইভাবেই চলছিল । হঠাৎ একদিন অফিসের ভেতর খুব চিৎকার চেঁচামেচি, শোনা গেল যে সিঁড়িটি বাবরি মসজিদের ঘটনার পর বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, সেটি খুলতে গিয়ে মিস্তিরিরা দেখে সিঁড়ির নীচে ভূত বসে আছে । অনেকে উঁকি মেরে এসে বলল সত্যি হাত তুলে কে বসে আছে । অবশেষে সেক্রেটারি আট সেলের টর্চ নিয়ে সাঙ্গোপাঙ্গ নিয়ে সিঁড়ি দিয়ে নীচে নামতে লাগলেন, পিছন পিছন আমরাও । বন্ধ দরজার কাছে সাদা মতো সত্যি কেউ বসে । সেক্রেটারি আধা সাহেব মানুষ, তিনি চিৎকার করে বলে উঠলেন, “হু ইস দেয়ার ?” ভূত কি আর উত্তর দেয় ? এবার টর্চের জোরাল আলো পড়ল ভুতের মুখে । জীর্ণ বসনে মা সরস্বতী বসে আছেন দরজার পাশে । চেপে ধরা হল বেয়ারাকে, সে অপরাধ স্বীকার করে বলল, “আমি ভেবেছিলাম ঐ দরজা আর খোলা হবে না, তাই ওখানে ঠাকুরটা রেখে দিয়েছিলাম ।”
বলা বাহুল্য, সরস্বতী পুজো সেই থেকে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল ।
------------------------------------------------------------------------------------------------
Contributed by: Siddhartha Chakraborty in WaaS / 10 July 2015
No comments:
Post a Comment