"); -->

May 3, 2015

অথ মৎস্য পুরাণ

|| অথ মৎস্য পুরাণ ||


কোলকাতা থেকে ফিরে আজই প্রথম বাজারে গেলাম - রামনগর ফিশ মার্কেট । বাজার পাইকারি হলেও খুচরোও বিক্রি হয়, তবে কেটে নয় । পুরো নিতে হবে । ছোট মাছ হলে ১ কিলোর কম নয় । বাজারে পৌঁছলাম সোয়া আঁটটা নাগাদ । পৌঁছে মনে হল একটু দেরী হয়েছে, বাজারটা একটু খালি খালি । যাই হোক, ভেতরে ঢুকে রুই, কাতলা ভালই আছে মনে হল । একজনকে দাম জিজ্ঞাসা করতে বলল ৮০ টাকা - কানকো টকটকে লাল । বেশ । আর একটু এগিয়ে দেখি এক ঝাঁক ‘সুন্দরী’ রুই শুয়ে রয়েছে । সূর্যের আলো তাদের রুপোলী গায়ে পড়ে চোখ ধাঁধিয়ে দিচ্ছে । দাম ? ‘একশো দশ !’ আর একটু দেখি । এগোতেই চিংড়ী - মেজ সাইজের বাগদা । ২৪০ থেকে শেষে ২২০ তে রফা হল । ১ কিলো নিলাম । গিন্নি বলেছেন লাউ-চিংড়ীর লাউ আছে অতএব ... । পাশে শোল এর বন্যা, আর কিছু সামুদ্রিক ভ্যারাইটি । ‘Basa’ খুঁজলাম – Spencer Hyper এ ৬০০- ৬৫০ কিলো । তবে কেটে দেয় । এ বাজারে সাধারণত ২০০ থেকে ২৫০ টাকায় পাওয়া যায় । তবে precondition - পুরো নিতে হবে । IFB আজকাল ইন্দোনেশিয়া থেকে আমদানি করা ‘বাসা’ বিক্রি করছে । Fillet ও পাওয়া যায় । বম্বের ‘সুর্মা’ বা কেরালার ‘Seer fish’ এর মতো ।

যাই হোক, সুন্দরীর রূপমুগ্ধ, ফিরে গেলাম আবার । “আক্কা, ক্যাইসা দিয়া ?”– মেছুনীকে জিজ্ঞাসা । কী উত্তর দিল তেলেগুতে কে জানে । ফের বললাম ‘তেলেগু ইল্লা, হিন্দি হিন্দি” । “একশো দশ |”  “ক্যা আক্কা, সও ক্যরো না” - মেছুনীকে দিদি বলে ভেজাবার চেষ্টা করি ।

মাছি তাড়াবার ভঙ্গিতে মুখ ভেটকে কী বলল কে জানে । কিন্তু তারপরই মেছুনীর ওজনদার একটা মাছ তুলে পাল্লায় চাপাল । ৩ কেজি । শিয়ালদার মাছের আড়তদার বাচ্চু মণ্ডল বহু বছর আগে বলেছিল- “মাছ নেবেন দাদা Sব Sময় বেS গোলগাল দেখে । মানুS দেখেন না ? সুটকো আর গোলগাল ? কাকে ভাল লাগে ? অয় অয় ।“

ওজনদার কে বললাম “থোড়া বড়া আউর গোলওয়ালা ।” হাত দিয়ে দেখালাম একটা । সুন্দরীর ওজন সাড়ে তিন কিলো । সাড়ে তিনশো দিয়ে থলিস্থ করে হাঁটা দিলাম ‘বেঙ্গলি কাটার’ এর জন্য । না না বাঙ্গালী নয় । মাছ যাতে বাঙ্গালীদের মতো কাটা হয় তার জন্য । না হলে তেলেগু কাটিং হবে । সেটা আড়াআড়ি ভাবে কাটা হয় – গাদা-পেটি একসাথে তিন ইঞ্চি চওড়া মাছ কাটলে প্রায় ছ’ইঞ্চি চওড়া দেখায় । আমার পরিচিত কাটারের কাছে গিয়ে থলি থেকে উগরে দিলাম সুন্দরীকে । “আন্না । বেঙ্গলি কাটিং” – বলতে হয় না হলে ... ।
‘হাঁ হাঁ, মালুম হ্যায়’ – আন্নার উত্তরে আশ্বস্ত হলাম, এ বঙ্গ সন্তানকে তাহলে মনে আছে ।

আন্নার দুই সহকারিণীর একজন আঁশ ছাড়াতে লেগে যায় । আঁশ ছাড়াবার যন্ত্রটি অভিনব । একটি চ্যাপ্টা কাঠের টুকরোতে অনেকগুলো পেরেক মারা – লম্বায় প্রায় ৬ - ৭ ইঞ্চি, আর চওড়ায় ৩ ইঞ্চি মতো । হাতলের দিকটা একটু সরু । সেটা দিয়ে ঘষলেই আঁশগুলো অতি সহজেই উঠে যায় । মাছ কাটার দা অনেকটা সপ্তমীর চাঁদের মতো । বম্বের বাজারের মেছুনীরা যে ধরনের দা ব্যবহার করে প্রায় সে রকম কিন্তু একটু বেশী ভারী । মাছ কাটা সাঙ্গ হল আমার চাহিদামত । প্লাস্টিকের থলিতে টুকরো গুলো ভরা শেষ । রুই আর চিংড়ী মিলে ব্যাগের ওজন ৪ কিলো !

এবার বাড়ি গিয়ে আমাকেই চিংড়ীর খোসা ছাড়িয়ে লাউডার সঙ্গে শুভ পরিণয়ের সুবন্দোবস্ত করতে হবে । গিন্নী খুশি হবেন ।

এরই নাম প্রেম !


২রা মে, ২০১৫, হায়দ্রাবাদ
------------------------------------------------------------------------------
Contributed by: Bidyut Basu Thakur in WaaS / 03 May 2015

No comments: