।। মা ।।
সাদামাটা ঘর ভাঙ্গা ভাঙ্গা বাড়ি
আমার মায়ের দু’খানাই শাড়ি ।
তিন ছেলে তাঁর ইস্কুলে যায়
টিফিন হলেই প্রাচীর ডিঙ্গায়
সব ছোট জন রুগ্ন ভীষণ
প্রায় দিন জ্বর, খুব বাড়াবাড়ি ।
শ্রাবণের শেষে জলে ঢাকা মাঠ
জল উঠে আসে ঘরের ভেতরে,
ভাঙ্গা টালি দিয়ে জল ঝরে যায়
বিছানা বালিশ চাদর ভিজায় ।
বাবা কাজ করে সাহারনপুরে
অল্প মাইনে নিম্ন চাকুরে
যতো টুকু আয় ততো টুকু ব্যয়
মাস গেলে কিছু বাড়িতে পাঠায় ।
তিন ছেলে তাঁর ইস্কুলে যায়
টিফিন হলেই বাইরে পালায়
সব ছোটজন জীর্ণ শীর্ণ
প্রায় দিন জ্বর, খুব বাড়াবাড়ি ।
সাদামাটা ঘর ভাঙ্গা ভাঙ্গা বাড়ি
হে জীবন ! তুমি চলো তাড়াতাড়ি ।
নুনের আশায় পান্তা ফুরায়
মাস পোহালেই পিওনের খোঁজে,
চেয়ে চেয়ে থেকে চোখ ব্যথা করে,
মানি অর্ডার ঐ আসে আসে
লুচি ভাজা ভাজা গন্ধ বাতাসে !
সব ছোটজন অসুখে ঝিমায়,
একদিন রাতে জ্বরের বেঘোরে
ভুল বকে বকে, ভোরের বেলায়
জীবনকে শুভরাত্রি জানায় ।
ভাঙ্গা ভাঙ্গা ঘর সাদামাটা বাড়ি
এই ব্যথা-পথ দিতে হবে পাড়ি ।
এই ভাবে দিন পাকে ও চক্রে,
একই বৃত্তে ঘোরা ফেরা করে ।
বড়ো ছেলে তার কবি হতে চায়
রোজগারহীন জীবন কাটায়,
মেজ আর সেজ মারবেল খেলে –
কেউই জানে না কী মন্ত্রবলে
আহার্য জোটে সকালে বিকেলে ।
একদিন শেষে ঘরের দেওয়ালে
কাঁচের ভেতরে মার ছবি ঝোলে
শুকনো ফুলের শুকনো মালায়
বাউল বাতাস দোল দিয়ে যায় ।
ও বাতাস তুমি কাকে খুঁজে যাও ?
এই ঘর থেকে ওঘরে পালাও !
সাদামাটা ঘর ভাঙ্গা ভাঙ্গা বাড়ি
আমার মায়ের ছেঁড়া ছেঁড়া শাড়ি
ভাঙ্গা তোরঙ্গে বন্দিনী নারী
ভাঙ্গা ভাঙ্গা ঘর সাদামাটা বাড়ি
সাদামাটা ঘর ভাঙ্গা ভাঙ্গা বাড়ি ।।
------------------------------------------------------------------------------------------------
Contributed by: Sankar Bhattacharyya in WaaS / 27 April 2015
No comments:
Post a Comment