|| কাঠুরের গল্প ||
সৎ কাঠুরে ও অসৎ কাঠুরের গল্প প্রায় সবাই জানেন । ছোটবেলায় নীতি শিক্ষার জন্য আমাদের সবাইকেই প্রায় শুনতে হয়েছে , গল্প-টি হল - এইরকম ---
এক গ্রামে দুজন কাঠুরে বাস করতো , একজন সৎ আর একজন অসৎ । একদিন নদীর ধারে গাছ কাটার সময় সৎ কাঠুরের কুঠারটি নদীর জলে পড়ে গেল , তখন সে হাপুস নয়নে কাঁদতে লাগলো (কারণ তার ও তার স্ত্রীর এখন কী করে দিন চলবে - এই কাঠ কেটে বিক্রি করেই তো তাদের কোন রকমে দিন চলে - এইসব ভেবে ।) তার কান্নায় দয়া-পরবশ হয়ে জলের দেবী উঠে এসে তাকে সান্ত্বনা দিয়ে বললেন - "কেঁদো না বৎস , আমি তোমার কুঠারটি ফেরত দিচ্ছি |" - এই বলে তিনি জলের তলা থেকে একটা সোনার কুঠার তুলে এনে তাকে দিতে গেলেন , কিন্তু কাঠুরে বলল - "এটা তো সোনার কুঠার, এটা আমার নয় |" জলদেবী তখন আবার জলের তলা থেকে একটা রুপোর কুঠার তুলে এনে তাকে দিতে গেলেন । এবার ও কাঠুরে সেটাও নিতে অস্বীকার করলো - "এটাও আমার নয় , এটা তো রূপোর কুঠার |" তখন জলদেবী তার নিজের কুঠারটি তুলে এনে তাকে দেখাতে সে বলল - "হাঁ , এটাই আমার কুঠার |" তখন তার সততায় জলদেবী খুশী হয়ে তাকে তিনটা কুঠারই দিয়ে দিলেন । সৎ কাঠুরে তখন সোনার ও রুপোর কুঠার দু'টি বিক্রি করে অনেক টাকা পেল ও ঘরদোর সারিয়ে চাকর বাকর রেখে সুখে দিন কাটাতে লাগলো , তাদের আর কোন অভাব রইলো না ।
এদিকে তার অবস্থার হঠাৎ পরিবর্তন দেখে অসৎ কাঠুরেটি খুব অবাক হয়ে তার অবস্থার পরিবর্তনের কারণ জানতে চাইলে - সে সরল ভাবে সব কথা বলল ।
তখন অসৎ কাঠুরে মনে মনে ফন্দি এঁটে নদীর ধারে গিয়ে গাছ কাটার ছুতো করে তার কুঠারটি ইচ্ছা করে জলে ফেলে দিয়ে খুব কান্নাকাটি শুরু করলো । জলদেবী যথারীতি উঠে এসে তার কান্নার কারণ জেনে তাকে সান্ত্বনা দিয়ে জলের নীচ থেকে একটি সোনার কুঠার তুলে এনে তাকে দেখাতেই সে তাড়াতাড়ি লোভের বশে - এটাই তার কুঠার বলে দাবী করলো । তখন জলদেবী তার অসততায় রুষ্ট হয়ে তাকে কোনো কুঠার না দিয়েই চলে গেলেন ।
--------------------------------------------------------------------------------------
নীতিশিক্ষার গল্পটি এখানেই শেষ , এবার আমার সংযোজন ---
--------------------------------------------------------------------------------------
এইবার সৎ কাঠুরের স্ত্রী একদিন মারা গেল । কাঠুরে তখন খুব কান্নাকাটি করতে লাগলো - কারণ একমাত্র স্ত্রী ছাড়া তার নিজের আর কেউ রইলো না , ছেলেপুলে কিছু হয়নি , তাই তার স্ত্রী-ই তার একমাত্র অবলম্বন ছিল , তাছাড়া সে তার স্ত্রীকে খুব ভালবাসত ।
সে তখন নদীর ধারে গিয়ে খুব কান্নাকাটি করতে করতে জলদেবীকে ডাকতে লাগলো - জলদেবী তার কান্নাকাটিতে আবার উঠে এসে তাকে সান্ত্বনা দিয়ে তার কান্নার কারণ জেনে জলের তলা থেকে হেমামালিনী'র মত দেখতে একজনকে তুলে এনে তাকে দেখাতেই সে বলল - "হাঁ , এই আমার বৌ |" জলদেবী তখন তাকে অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করলেন - "কী ব্যাপার বলতো কুঠারের বেলায় তুমি সততা দেখিয়ে সোনা ও রুপোর কুঠার ফিরিয়ে দিয়েছিলে - তাই তোমাকে তোমার সততার উপহার স্বরূপ তিনটা কুঠারই দিয়েছিলাম । কিন্তু এবার তোমার সততা কোথায় গেল ?"
কাঠুরে জবাবে বলল - "হাঁ , আমি সততা দেখিয়ে একে ফেরত দিলে আপনি আবার বৈজয়ন্তীমালা'র মত দেখতে আর একজনকে আনবেন - তারপর আমি তাকেও ফেরত দিলে আপনি আমার নিজের বৌকে আনবেন ও শেষ পর্যন্ত তিন টাকেই আমার ঘাড়ে চাপিয়ে দেবেন ও আমার জীবন তখন তিনটে বৌ সামলাতে সামলাতে অতিষ্ঠ হয়ে যাবে । আমি তাই এইটাকেই নিলাম ।"
--------------------------------------------------------------------
আমার গল্পটা - এখানেই শেষ করছি , কারণ আমার বৌ এদিক পানেই আসছে , এইসব লিখেছি দেখলে আমাকে আর আস্ত রাখবে না - হাড়-মাস ভাজাভাজা করে দেবে - আর কোনদিন ফেসবুক করতে দেবেনা ।
--------------------------------------------------------------------
Contributed by Debkisor Chakrabarti / 24 January 2015
No comments:
Post a Comment